নৌ শ্রমিক ও মালিকরা সমঝোতায় না এলে আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী
আপডেট: ২০১৬-০৮-২৪ ১১:১৭:২১
এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি নৌ-চলাচল। দেশের কোথায় থেকে লঞ্চ-স্টিমারসহ নদীপথে যাতায়াতকারী কোনো যানবাহন চালু শুরু হয়নি। তবে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে লঞ্চশ্রমিক ও মালিকপক্ষের লোকজনের সাথে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা এখনও সম্ভব হয়নি।
তবে গতকাল সচিবালয় নৌ শ্রমিক ও মালিকরা সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ধর্মঘট ডাকে নৌযান শ্রমিকরা।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মঘটের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। নৌপরিবহন শ্রমিকরা কোন নোটিশ দিয়ে ধর্মঘট ডাকেনি। তারা বলছেন কর্মবিরতি। ধর্মঘট হলে তো নোটিশ দেওয়ার কথা। আমাদের কাছে কোন নোটিশ নেই।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যা শুধু মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। মজুরি নির্ধারণ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি ঢাকার বাইরে রয়েছেন। তিনি বুধবার ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।’
‘শ্রম পরিদফতর মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা করবে। সেখানে সমঝোতা না হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে’ বলেন শাজাহান খান।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৬ এপ্রিল নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে সরকার ও মালিকদের বৈঠকে নৌযান শ্রমিকদের মজুরি ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার, ‘খ’ ক্যাটাগরিতে সাড়ে ৯ হাজার ও ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ৯ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। তেলবাহী জাহাজের মালিকরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। সেখানে কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি বলেন, ‘চার মাস হয়ে গেল আমরা মজুরি দিতে পারলাম না এটা চিন্তার বিষয়।’
সমস্যা কার্গো জাহাজ ও যাত্র্রীবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কার্গো ভেসেলস ওনার্স এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ওয়াটার ওয়েজ প্যাসেঞ্জার ক্যারিয়ার এসোসিয়েশন (বর্ধিত মজুরি না দিতে) মামলা করেছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। কিন্তু সব উপেক্ষা করে মালিকরা মামলা করেছেন।’ ধর্মঘট চললেও দেশের বিভিন্ন রূটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে বলেও জানান নৌপরিবহন মন্ত্রী।
মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে ২০ এপ্রিল সারাদেশে পণ্যবাহী, যাত্রীবাহী, তেলবাহী, বালুবাহী সব নৌযানের শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকে। পরে টানা কয়েকদিন সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় পর ২৬ এপ্রিল সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মজুরি চূড়ান্ত করতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নৌযান ধর্মঘটের বিষয়ে চাঁদপুর নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মো. বিপ্লব সরকার বলেন, “চার দফা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।”
সানবিডি/ঢাকা/ইমরান/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














