রাবিতে ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন দিবস পালন

আপডেট: ২০১৬-০৮-২৪ ১৬:৫১:০২


RU Pic1 24.08.2016বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন’ দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার দিবসটি উপলক্ষে মানববন্ধন, র‌্যালি, আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রদের সঙ্গে সেনা সদস্যদের সংঘর্ষ বাধে। এসময় অনেক ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দিন শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশে সংঘর্ষে অন্তত কয়েকশ জন আহত হন। এর পর থেকে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন’ দিবস পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বেও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হকের সঞ্চালনায় সভায় আলোচকবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশের ছাত্র-শিক্ষক সমাজ বাঙালি জাতির সকল আন্দোলন-সংগ্রামে গৌরবময় ভূমিকার অধিকারী। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের আগস্টে দেশে বিরাজমান নিপীড়নমূলক পরিস্থিতিতে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাঙ্গন প্রতিবাদী হয়ে উঠে। তৎকালীন রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি সেই প্রতিবাদ দমন করতে ছাত্র-শিক্ষকদের গ্রেফতার করে নির্যাতন-হয়রানির পথ বেছে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয় হয়রানিমূলক মামলা। কিন্তু এক সময় প্রতিষ্ঠিত হয় সত্য, সকল ষড়যন্ত্র থেকে ছাত্র-শিক্ষক সমাজ মুক্ত হয়। সেই প্রতিবাদ ত্বরান্বিত করে দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ।”

সভায় আলোচকগণ সেদিনের সেই নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন। অন্যতম আলোচক নির্যাতিত শিক্ষক অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘটনাকে একটি বড় ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। তিনি ইতিহাস বিকৃতি রোধে একটি কমিশন গঠন ও সেই ঘটনার পূর্বাপর উদ্ঘাটন করে তার প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।

এদিকে বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আয়োজনে সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি বের করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। পরে র‌্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সানবিডি/রাবি/হৃদয়/এসএস