মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আজিজ আহমেদ

‘শাস্তি পাওয়ার মতো কোনো অপরাধ করিনি’

আপডেট: ২০২৪-০৫-২১ ১৬:৫৭:২০


দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ। এতে অবাক হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এমন কোনো অপরাধ করিনি যে শাস্তি পেতে হবে। অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।

জাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’র প্রসঙ্গ তুলে আনেন আজিজ আহমেদ। সেটাকে একটি নাটক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালে আল জাজিরার তৈরি করা ডকুমেন্টারিতে যে দুইটি অভিযোগ করা হয়েছিল, এই নিষেধাজ্ঞাতেও সেই দুই অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এই দুইটি জিনিস ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে আজিজ বলেন, আমি সেনাপ্রধান হওয়ার অনেক আগে থেকে সে বিদেশে বসবাস করে। সে যদি বিদেশে গিয়ে থাকে তাহলে বৈধ পাসপোর্ট নিয়েই গেছে। এখানে আমি আমার পদ-পদবী ব্যবহার করে দেশের আইন ফাঁকি দিতে সাহায্য করেছি, এমন অভিযোগ মেনে নিচ্ছি না। মেনে নিতে পারি না। এটা সঠিক না।

এরপর দ্বিতীয় অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ৪ বছর বিজিবিতে ও ৩ বছর সেনাপ্রধান ছিলাম। এই সময়কালে যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি আমার ভাইকে কোনো কন্ট্রাক্ট পেতে সাহায্য করেছি, তবে এর জন্য যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট। এতে দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানায় দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, জেনারেল আজিজ আহমেদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করেছে। আজিজ আহমেদ তার ভাইকে বাংলাদেশে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য জবাবদিহিতা এড়াতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। সামরিক চুক্তির বিষয়ে আজিজ তার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন।

আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করা হলো। সরকারি সেবা আরও স্বচ্ছ ও নাগরিকদের সেবা লাভের সুযোগ তৈরি, ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মুদ্রা পাচার ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অপরাধের অনুসন্ধান ও বিচার নিশ্চিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টায় সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, ফরেন অপারেশন অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্টের ৭০৩১ (সি) ধারার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এই পদক্ষেপের ফলে আজিজ আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এম জি