মালিকানা বদলের পর থেকে তারল্য সংকটে ইসলামি ব্যাংকগুলো: সিপিডি

আপডেট: ২০২৪-০৫-২৩ ২২:০৯:৫৩


সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দূর্বলতার কারণে একসময়ের ভালো ব্যাংকগুলো এখন খারাপ হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে এসব ব্যাংকে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সামনে কী অপেক্ষা করছে’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাসেল–৩ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সূচকের তথ্য নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ব্যাংক তা দেয় না। যেসব তথ্য দিচ্ছে আসল চিত্র কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যেসব তথ্য যাচ্ছে তা পাওয়ার দরজা ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের জন্য আমরা মিডিয়ার ওপর নির্ভর করতাম। সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তথ্য যদি হাতের মুঠোয় একটি বাটনে থাকে তাহলে তো সাংবাদিকদের কোথাও ঘুরাঘুরির দরকার পড়ে না। উন্নত দেশগুলোতে রিয়েলটাইম তথ্য দেওয়া হয়। আজকের অবস্থা সেখানে জানা যায়। তথ্যের অভাব এবং নির্ভরতার কারণে নীতিমালা সঠিক হয় না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দূর্বলতার কারণে একসময়ের ভালো ব্যাংকগুলো এখন খারাপ হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে এসব ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট তৈরি হয়েছে। মনে রাখতে হবে সুশাসনের সঙ্গে ব্যাংক খাতের প্রতিযোগিতা ওতপ্রতভাবে জড়িত। প্রতিযোগিতা না থাকলে সুশাসনে দূর্বলতা চলে আসে। প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে যখন ব্যাংক মনোপলিস্টিক বা একক গোষ্টির মধ্যে চলে যায় তখন তারা অতি অস্বাভাবিক মুনাফা করে। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ ভুলন্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী, সরকার, ব্যাংকের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি হয়ে দূর্বলতাগুলো সৃষ্টি হয়েছে। যার ভুক্তভোগি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসব ব্যাংক একচেটিয়া অবস্থার মধ্যে ঢুকেছে তখন থেকে স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। যখন গোষ্টি শাসন তথা অলিগর্ক তৈরি হয়েছে সুশাসনের অভাব দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোতে অলিগর্ক তৈরি হয়েছে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। সে কারণে প্রতিযোগিতার বিষয়টি চলে গেছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি ও স্বচ্ছতা না থাকার কারণে মন্দ ঋণ বেড়েছে। আর মন্দ ঋণ পুরো অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে, তার আগে ব্যাংকের স্বাস্থ্যের অবস্থা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাহমিদা খাতুন বলেন, একীভূত করার কথা-বার্তা শুরুর সময় কিছু ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হলো, তারা একীভূত হবে। আবার তারাই বললো একীভূত হতে রাজি নয়। এখানে দুটি ব্যাংক যুক্ত করে দিলেই হলো না। এর সঙ্গে ব্যাংক দুটিতে যারা চাকরি কারে তাদের চাকরির বিষয়টি আছে, আবার টেকনোলজির ইন্টেগ্রেশনের ব্যাপার আছে।

বাংলাদেশের ব্যাংক ঋণের বড় অংশ এখন ইচ্ছাকৃত খেলাপি উল্লেখ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, কিন্তু ফেরত দিতে হবে তেমন কোনো দায়বদ্ধতা তাদের ভেতরে কাজ করে না। অন্য দিকে কিছু ভালো গ্রাহক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিনিয়ত ঋণ পরিশোধ করছে। এ অবস্থা আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যাংকিং কমিশন তৈরি করে ব্যাংকিং খাতে ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ করার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন ফাহমিদা খাতুন।

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এএ