আপনারা নতুন বাজার খুঁজুন, ব্যবসায়ীদেরকে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ২০১৬-০৮-২৮ ১৮:৫২:০৪


pm-programনতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খোঁজার উদ্যোগটা ব্যবসায়ীদেরই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় রফতানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা নতুন নতুন বাজার খুঁজে বেড়ান। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা সেটা বিশ্লেষণ করে বাজার খুঁজুন। বাজার নিজেদের খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু বাজার খোঁজার উদ্যোগটা আপনাদেরই নিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ব্যবসার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। ব্যবসায়ীদের সব রকমের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। যেন তারা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেন। গত সাত বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।’

ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্টে অনুস্বাক্ষর করেছি। খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের ব্যবহার রোধকল্পে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফরমালিন কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ২০১৫ প্রণয়ন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় বিদেশে ১৯৬টি আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রফতানি পণ্য প্রদর্শনীর জন্য চীনের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জ জেলার বাউশিয়াতে প্রায় ৫৩১ একর জমির ওপর একটি অত্যাধুনিক গার্মেন্টস শিল্প পার্ক নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে ১০টির কাজ এগিয়ে চলছে। অধিক মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে ও দেশজ কাঁচামালনির্ভর রফতানি পণ্য উৎপাদনে আপনাদের মনোনিবেশ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ সময় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পণ্য ও বাজার বহুমুখী করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোনো ব্যবসায়ী ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা ক্ষমতায় আসার পর সার্বিক পরিকল্পনায় ব্যবসা খাতকে এগিয়ে নিতে থাকি। তারা ক্ষমতায় থাকতে কেবল স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিজেদের জন্য কাজ করেছে। কিন্তু আমরা দেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিতি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মরফুহা সুলতানা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ বছরের জন্য সর্বমোট ১১৩টি জাতীয় রফতানি ট্রফি ও সনদ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ৫২টি স্বর্ণ, ৩৭ রুপা, ২৪ ব্রোঞ্জ ট্রফি রয়েছে।

সানবিডি/ঢাকা/আহো