গৃহবধূকে ধর্ষণ ও হত্যা: দুই জনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৪-০৬-০৩ ০৮:২৫:৫৯


পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যায় দায়ের করা মামলায় ৯ বছরের মাথায় দুই আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২ জুন) বিকেলে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের বিচারক বিএম তারিকুল কবির এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ডাঙ্গীপুকুর গ্রামের মৃত কাশিম উদ্দীনের ছেলে ও নিহত ভাই মজির উদ্দীন বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি অজ্ঞাত নামার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ২০১৬ সালে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দেন।

মামলার আসামীরা হলেন- অমরখানা ইউনিয়নের নিমাইপাড়া বোর্ডঅফিস গ্রামের আফাজ উদ্দীনের ছেলে কাবুল ওরফে শহীদুল ইসলাম (৩৫) ও একই ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের জহির উদ্দীনের ছেলে নাজমুল হুদা (৩৮), হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঢাংগীপুকুরি গ্রামের সমির উদ্দীনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৫২) ও একই ইউনিয়নের ব্রম্মতল গ্রামের ওসমান আলী ওরফে ফেনডেরার ছেলে কাবুল হোসেন (৩৮)।

দুইজনকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও কাবুল ওরফে শহীদুল ইসলাম (৩৫) ও নাজমুল হুদাকে (৩৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

আদালত ও মামলার এজাহারে জানা গেছে, ভিকটিম নুরিনা বেগম একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বাদীর (ভাই) বাড়িতে মেহমান খেতে যায়। পরদিন হাফিজাবাদ ফুলপাড়া গ্রামে রোকেয়া বেগম নামে আরেক বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় সে। তাকে না পেয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অমরখানা ইউপির প্রধানপাড়া গ্রামে শালমারা গড়ের ইউক্লিপটার্স ও আকাশ মনি বাগানে জঙ্গলের ভিতরে এক মহিলার গলিত মরদেহ মাটিতে পাড়ে থাকতে দেখে স্থানীরা। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে মজির উদ্দীন ও পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরিনাকে শনাক্ত করে। একই সাথে কিছু আলামত জব্দ করে পুলিশ। ওইদিন রাতে মজির উদ্দীন বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি অজ্ঞাত নামার অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ২০১৬ সালে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেফতার করে।

এদিকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে দীর্ঘ ৯ বছরের মাথায় রোববার বিকেলে আদালত ২ জনকে অব্যাহতি দিয়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের পি.পি আজিজুর রহমান আজু।

তকে আসামী পক্ষের আইনজীবী রিয়ানুস সাঈদ জানান, আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে।

এম জি