‘বঙ্গোপসাগর থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া সম্ভব‘

সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৪-০৬-০৫ ১৭:৪২:১৪


মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রে বিরোধপূর্ণ ১৭টি ব্লকের ১২টি এবং ভারতের থেকে দাবি করা ১০টি ব্লকের সবগুলোই বাংলাদেশ পাওয়ায় এসব ব্লক থেকে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (৫ জুন) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাংলাদেশের মেরিটাইম শিক্ষাব্যবস্থা ও সুনীল অর্থনীতি শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয়ে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৪৫ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহিসোপানের তলদেশে সব ধরনের প্রাণিজ-অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সুনীল অর্থনীতির চারটি ক্ষেত্র তেল ও গ্যাস উত্তোলন, মৎস্য আহরণ, বন্দর সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করলে বছরে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে। বাংলাদেশ বর্তমানে উপকূল থেকে মাত্র ৩৫-৪০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে মৎস্য আহরণ করে থাকে। মৎস্য সংগ্রহে সমদ্র এলাকা ২০০ নটিক্যাল মাইল দেশের মৎস্যশিল্পকে নিশ্চিতভাবে বিকশিত করতে পারে।

তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, চিংড়ি, নানা প্রজাতির কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক এবং বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও জৈব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রয়েছে। মৎস্যসম্পদ ছাড়াও সামুদ্রিক প্রাণী, সামুদ্রিক আগাছা, লতা-গুল্মতেও ভরপুর বঙ্গোপসাগর। এসব আগাছা প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরি করা যায়। স্পিরুলিনা নামক আগাছা চীন, জাপান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষ খাদ্য হিসেবে খেয়ে থাকে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ১৩টি স্থানে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম সমৃদ্ধ বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে যা স্বর্ণের চেয়েও দামি।

এছাড়াও, বঙ্গোপসাগরে ইলমেনাইট, টাইটেনিয়াম অক্সাইড, রুটাইল, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, কোবাল্টসহ অত্যন্ত মূল্যবান খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ সঠিক উপায়ে উত্তোলন করতে পারলে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমুদ্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বাংলাদেশও অফশোর এবং অনশোরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে, যা হবে ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্লু- ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। সুনীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রণয়ন করা হয়েছে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ যা ডেল্টা প্ল্যান নামে পরিচিত।

সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে এরইমধ্যে বন্দরগুলো সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন করা হয়েছে। সমুদ্র সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশে মেরিটাইম শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করে সমুদ্র সম্পদকে যথাযথ আহরণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে মেরিটাইম শিক্ষা ও সুনীল অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা, সমুদ্র আইন, সমুদ্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা, সমুদ্রের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য মেরিটাইম শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

বিএইচ