ভাতঘুম শেষে ঘুমঘুম…

প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৩ ১৩:১০:০৮


sleepafter-lunch-homeদুপুরবেলা খাওয়ার পরপরই (ভাতঘুম) সারা শরীর যেন স্লিপিং মুডে চলে যায়। একটু বিছানা পেলে তো কথাই নেই। আর যারা চাকরিজীবী? দেখা যায় চেয়ার কিংবা টেবিল যেখানেই পারা যায় একটু হেলান দিয়ে চোখ বুঝতে চান। খাওয়ার পরপর এই ঘুমঘুম ভাব আসার কারণ হচ্ছে খাবারে আমিষ ও লবণের আধিক্য বা খাবারের পরিমাণ বেশি হওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ‘দ্য স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ মানুষ ও কীটপতঙ্গের উপর গবেষণা করে দেখে যে বিভিন্ন কীটপতঙ্গও ভারি আহারের পর দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘুমাতে যায়। আবার খাবারে বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতিও ঘুমের তারতম্যে প্রভাব ফেলে।

ই-লাইফ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত সে গবেষণায় দেখানো হয় শুধু প্রোটিন ও লবণ হচ্ছে খাবারের পরপর ঘুম নিয়ে আসার কারণ। এ গবেষণাপত্রে আরও বলা হয় আমরা খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ এনে দুপুরের ঘুমেও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসতে পারি।

কিন্তু কে চায় হায় এত সুন্দর ঘুম থামিয়ে দিতে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুপুরের খাবারের পর একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার রীতি আছে। ইউরোপের দেশ স্পেন তো এই ঘুমটার একটি অসাধারণ নামও দিয়েছে-‘সিয়েস্তা’।

হাফিংটন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক আরিয়ানা হাফিংটন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দুপুরে ঘুমানোর সুবিধা দিয়ে থাকেন।

আর ভারতবর্ষেও দুপুরে ঘুম ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কর্পোরেট সংস্কৃতিতে এটাকে খুবই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। কর্মস্থল সবসময় সিসিটিভির আওতাভুক্ত থাকে বলে অনেককে ইচ্ছে করলেও ঘুমানো থেকে বিরত থাকতে হয়!

কিন্তু আপনার খাবারে যদি প্রোটিন ও লবণ থাকে তাহলে কিন্তু ঘুম চলে আসবে। কারণ প্রোটিন ভাঙতে এবং লবণকে শরীর শুষে নিতে বেশ শক্তি ক্ষয় হয় পাকস্থলীর। এজন্য শরীরের অন্যান্য কার্যক্রম থামিয়ে দিতে চায় যাতে হজমক্রিয়া ভালো করে সম্পাদন করতে পারে। সে সময়টাতে ব্যতিক্রম না হলে আপনার ঘুম আসবেই। আর ঘুম যদি দূরে রাখতে চান তাহলে প্রোটিন ও লবণযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকতে পারেন সে সময়টাতে!

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস্