‘অডিট রিপোর্টে আস্থা বাড়লে বাজার বাড়বে’

প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৩ ১৮:২৭:১৬


aziz-1অডিটরদের অডিট রিপোর্ট, স্বতন্ত্র পরিচালকের শক্ত ভূমিকা এবং পরিবারতন্ত্র হতে বের হয়ে আসতে পারলে কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে পরিচালকদের অবৈধ চাপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।তাদের কাজের স্বাধীনতা থাকতে হবে। কোম্পানিতে করপোরেট গভর্নেন্স শক্তিশালী করে স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোতে ‘তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন: বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী এই মেলা। এর আয়োজন করেছে দেশের প্রথম অনলাইন বিজনেস নিউজপোর্টাল অর্থসূচক ডটকম। আজ শনিবার এ এক্সপোর শেষ দিন।

সেমিনারে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ, এফসিএমএ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান খসরু।

প্রবন্ধে তিনি বলেন, দেশে বেশিরভাগ কোম্পানিগুলোর বোর্ড পরিবারতান্ত্রিক। যার কারণে একই রকমের সিদ্ধান্ত আসে বোর্ড থেকে। সেখানে করপোরেট গভর্নেন্স প্রাধান্য পায় না। তাতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না ম্যানেজমেন্ট।

অনেক সময় দেখা যায়, কোম্পানিগুলো মানুষের টাকা নিয়ে বোনাস লভ্যাংশ দেয়। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে আত্মীয় ও নিজেদের লোক বসানো হচ্ছে। তাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ড ইচ্ছা করুক আর না করুক-  কোনো গভর্নেন্স কাজ করে না।

অনুষ্ঠানে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ) সদস্য সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা বলেন, সুশাসন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দরকার।কোম্পানিগুলোতে সুশাসন থাকলে সবাই উপকৃত হয়। তিনি দেশের বিমা শিল্পের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ডিবিএ সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক বলেন, এখন বিনিয়োগকারীরা অডিটরদের অডিট রিপোর্টের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এটা সম্ভব হলে পুঁজিবাজারের অবস্থা এমন হতো না।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির রেগুলেটর হবে একমাত্র বিএসইসি। অনেক রেগুলেটরের সিদ্ধান্ত মানতে গিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এক্ষেত্রে সব রেগুলেটরের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট দ্রুত বাস্তবায়নে দাবি জানান তিনি।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি ও শাইনপুকুর সিরামিকের সিইও হুমায়ুন কবীর বলেন, পুঁজিবাজারের জন্য আমরা যদি কার্যকর করপোরেট গভর্নেন্স চাই তবে অন্যান্য দেশের প্রাকটিস বিবেচনায় নিতে হবে।আর এটা কোম্পানিগুলোতে বাস্তবায়ন করতে হবে।সেটা যদি না হয় তবে কোনো লাভ নেই।

“বেশিরভাগ কোম্পানির পারিবারিক ব্যবসা হওয়ার কারণে মালিকানা ও ম্যানেজমেন্ট আলাদা হচ্ছে না। এটা কোম্পানির সুশাসনে বড় বাধার সৃষ্টি করছে। মনে রাখতে হবে পেটে ক্ষুধা থাকলে কোনো করপোরেট গভর্নেন্স কাজ হয় না।”

তবে করপোরেট গভর্নেন্স শক্তিশালী করার জন্য বিনিয়োগকারীদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন বক্তারা।

আইসিএমএবি সাবেক সভাপতি সেলিম বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়া হলে করপোরেট সুশাসন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি একটি নমিনেশন কমিটি গঠনের দাবি জানান;যারা বোর্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।