কতগুলো স্বরকে স্তব্ধ করবে ওরা?

আপডেট: ২০১৬-১২-০৩ ১৮:৩২:৪২


cf76509c85c07a1a7199f2f5cc67c831-4-bloggerবাংলাদেশ এখন পরিণত হয়েছে এক নৃশংস বধ্যভূমিতে। প্রতিনিয়ত রক্তের লাল স্রোত বয়ে চলছে। একদল নরপিশাচ ধর্মের নামে চাপাতির হিংস্রতা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে সবকিছু।
চাপাতি দিয়ে ব্লগারদের এইসকল হত্যাকাণ্ড নতুন নয়। গত বছরেই মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে চারজনকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিঃসীম আঁধারে ছেয়ে গেছে আজ বাংলাদেশে। এর চারিদিকে শুধু অন্তহীন অন্ধকার। মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তার চর্চা করা এখন প্রচণ্ড রকমের বিপদজনক বাংলাদেশে। অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা এমনই সর্বব্যাপী যে বিপরীত কোনও চিন্তা-ভাবনা, বিশেষ করে ধর্ম, আরও স্পষ্ট করে বললে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে সামান্যতমও সমালোচনাও এক শ্রেণীর ইসলামি মৌলবাদী সহ্য করতে পারছে না কিছুতেই। মৌলবাদী জঙ্গিরা ঠিক এই কাজটাই করতে চাইছে আমাদের সমাজটাকে নিয়ে।সমাজটাও হয়ে উঠেছে প্রবলভাবে ধর্মান্ধ। বাংলাদেশের সমস্ত সীমানা জুড়ে চলছে কম্পনের ধ্বংসলীলা। কেউ জানে না কখন কার জন্য মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে হাজির হচ্ছে কদাকার ইসলামী জঙ্গী সেনারা।
বাংলাদেশে সু-বুদ্ধিসম্পন্ন মুক্তচিন্তার লেখকরা অনেকেই নিজস্ব মত প্রকাশে দ্বিধাগ্রস্ত এবং প্রবলভাবে আতংকিতও। আর আতংকিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে লেখালেখির ‘অপরাধে’ একের পর এক বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটছে, কিন্তু এর কোনটারই সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না, কাউকে ধরা হচ্ছে না, কোনও হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না। এটাই হত্যাকারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে চলেছে অবিরাম।
বিচার না হবার যে নজীর সেই সাথে বাংলাদেশ সরকারের এইসব হত্যাকাণ্ডকে গুরুত্ব না দেবার বিপদজনক প্রবণতা , এই গুলো একদিন আমাদেরকে জাতি হিসাবে পঙ্গু করে দেবে। তবে সেদিন এই উন্নয়নের জোয়াড় কোন কাজে আসবে না।
অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয়, নীলাদ্রি নীল, রাজীব ও দীপন কে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু, তারপরেও মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, প্রগতিশীল আন্দোলনকে থামানো যায় নি কখনো, যাবেও না। অস্ত্রের চেয়ে কলমের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাস আমাদের এবং দীর্ঘ সময় পরিভ্রমণে এর অগ্রযাত্রা অনিবার্য।