বিনা বিচারে বন্দী: তিনজনের জামিন

প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৪ ১৫:৪৪:৫৯


suprimএক যুগেরও বেশি সময় কারাগারে আটক তিন বন্দীকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এরা হলেন-সেন্টু ওরফে কামাল,মকবুল হোসেন এবং বিল্লাল হোসেন। এই তিনজনের মামলা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে বিনা বিচারে আরেক বন্দী চান মিয়াকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে ও ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেনি। তবে তার মামলাটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রবিবার বিচারপিত এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে ব্ম এম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
আদেশের পর জামিন পাওয়া বন্দীরা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বছরের পর বছর আমরা কারাগারে বন্দী রয়েছি। কিন্তু কেউই আমাদের বিষয়টি দেখেনি। বন্দী থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদেরও আমরা কোনো খোঁজ নিতে পারিনি। আমরা ঘর হারিয়েছি। সন্তানদের  মুখ দেখতে পাইনি।
এর আগে সকালে চার বন্দীকে আদালতে হাজির করে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারের কর্তৃপক্ষ। হাজিরের পর আদালত প্রত্যেক বন্দীকে মামলার বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন। পরে আদালত জামিন মঞ্জুর করে।
একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীর চারটি থানায় পৃথক চারটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে উত্তরা থানার মামলায় মকবুল হোসেন ২০০০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, তেজগাঁও থানার মামলায় বিল্লাল হোসেন ২০০২ সালের ২১ নভেম্বর, শ্যামপুর থানার মামলায় চাঁন মিয়া ২০০১ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং মতিঝিল থানার মামলায় সেন্টু ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। এসব মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। শুরু হয়েছে সাক্ষ্য গ্রহণও। কিন্তু পর্যাপ্ত সাক্ষী হাজির করতে না পারায় এখনো শেষ হয়নি বিচার কাজ। ফলে বিনা বিচারে ওই চার আসামি ১৪ থেকে ১৬ বছর যাবত কারাগারে আটক রয়েছেন।
এ নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা ও কুমার দেবলু দে। তরা আদালতে বলেন, ফৌজদারি মামলায় বিচার না হওয়ায় পৃথক চারটি মামলার চার আসামি বিনা বিচারে কারাগারে রয়েছেন ১৬ বছর ধরে। এভাবে বিনা বিচারে কারাগারে পড়ে থাকা অমানবিক। বিচার শেষে যদি তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন তাহলে ওই সময়টা কে ফিরিয়ে দেবে? এ ব্যাপারে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট অন্তবর্তিকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে।