বিয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন

প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৫ ১৮:২১:৩৯


নারী বা পুরুষ; প্রত্যেকের কাছেmarraige2ই বিয়ে মানে বাড়তি কিছু। নিজের সংসার; নিজের একটা ঘর; প্রিয় রংয়ে রাঙ্গানো দেওয়াল; আর আত্মীয়তার বন্ধনে দুটি পরিবার।

আর বিয়ের আগে প্রত্যেক নারী-পুরুষের মনে নানা কল্পনা থাকে। একইসঙ্গে পরিবরের অন্য সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন নানা আয়োজনের কাজে। এসব আয়োজন সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো- মানসিক প্রস্ততি; যদিও এ বিষয়ে ভাবনার সময় অনেকের কাছেই থাকে না। ফলে বিয়ের পর সংসার আর স্বপ্নের মতো হয় না। বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন তাবাচ্ছুম মেহরীন তৃপ্তি।

পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়েতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে জানার সুযোগ খুব একটা থাকে না। তাই মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার কোনো সুযোগ থাকে না। আবার প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে পরস্পরের পূর্বপরিচিত হলেও মানসিক প্রস্ততির বিষয়টা সব সময় গৌন থেকে যায়।

পরিচিত কিংবা অপরিচিত- উভয় ক্ষেত্রেই বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ের মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রঙ্গিন জীবনের সীমানা পেরিয়ে বাস্তব জীবনে প্রবেশ- মুহূর্তেই পেরিয়ে গেলেও তার রেশ রয়ে যায় আজীবন।

তাই বিয়ের আগে থেকে রোমান্টিকতার পাশাপাশি বাস্তবিক চিন্তা করতে হবে। জীবনের বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতা সবার থাকে না। তাই মা-বাবা এবং কাছের সিনিয়র ব্যক্তিদের উচিৎ, বিয়ের আগেই মেয়ে ও ছেলেকে বাস্তবতা সম্পর্কে জানানো এবং মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ে সচেতন করা।

বিয়ের পর সব ধরনের ছেলেমানুষী বাদ দিয়ে পরস্পর এবং পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। এটা করা হলে দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব। একইসঙ্গে পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে; নেতিবাচক আচরণ ত্যাগ করতে হবে।

শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আগে থেকেই তাদের নিয়ম-কানুন, আচার-ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিৎ। এতে বিয়ে পরবর্তী অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়। এসব ক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই মানিয়ে চলবে- তা নয়। ছেলেদেরও এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

আমাদের সামাজিক রীতি অনুযায়ী, বেড়ে ওঠার সঙ্গীদের ছেড়ে বিয়ের পর একেবারেই নতুন পরিবেশে যেতে মেয়েদের। সেখানে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় তাকে। এক্ষেত্রে ছেলে এবং পরিবারের সদস্যদের সহনশীন এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব রাখতে হবে।

পরিবারের সদস্যদের উচিৎ, বিয়ে পরবর্তী জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে মেয়ে ও ছেলেকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া। সামান্য বিষয়ে ঝগড়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করা। বিয়ে এবং শ্বশুর বাড়ি সম্পর্কে মেয়ে ও ছেলের সামনে কোনো নেতিবাচক কথা বলা উচিৎ নয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিবাহ বিচ্ছেদ এবং পারিবারিক কলহের ঘটনার সংবাদ আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে পেয়ে থাকি। এর অন্যতম কারণ বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতির অভাব।

যে স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে এবং সাংসারিক জীবন শুরু হয়, সে স্বপ্ন থাকুক অমলিন। স্বপ্ন ভাঙতে নয়; বিয়ে হোক, রঙ্গিন স্বপ্ন বুনে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।