সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: সিইসি

আপডেট: ২০১৬-১২-১১ ১০:৫২:৪২


cecবিএনপি দাবি তুললেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে শেষে সিইসি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। শেরে বাংলা নগরে এনইসি ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদুল ইসলাম, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে বেলা সোয়া একটা পর্যন্ত। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচ্য বিষয় নিয়ে কথা বলেন সিইসি। আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের আগে নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তাদের দাবি, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নির্বাচনী এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সেনা মোতায়েন না হলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে না।

তবে বিএনপির দাবি নাকচ করে সিইসি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দার কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছে তাতে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি অত্যন্ত স্বাভাবিক। সেখানে আপাতত সেনা মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করছি। যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার পড়ে, তাহলে এর আলোকেই নেয়া হবে।’

সিইসি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ভোটে যেন সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ২৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছি। নির্বাচনের শান্তি নষ্ট হলে তারা শাস্তি দেবে। নারায়ণগঞ্জে কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আমরা ব্যবস্থা নেব। ইতোমধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’

কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পার পাবে না বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। সংসদ সদস্য হয়েও নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে শামীম ওসমানের সংবাদ সম্মেলন আচরণবিধি লঙ্ঘন কি না-এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধিতে স্পষ্ট করেই সব কিছু লেখা আছে। যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করুক, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কাজী রকিবউদ্দীন জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সে ব্যাপারে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি ও জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি তারা গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন সিইসি।