জেলা পরিষদের ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না
আপডেট: ২০১৬-১২-২৫ ১৪:০১:০৪
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হলেও আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কী না তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে এরকম সংশয়ের কথাই প্রকাশ পাচ্ছে।পরোক্ষ ভোটের এ নির্বাচনে যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যকোনো দলের নেতা-কর্মী প্রার্থী নেই। ইতোমধ্যে ৬১ জেলার মধ্যে ২৫টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন হবে ৬১ জেলাতেই। কারণ সব জায়গায় সদস্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে।
নির্বাচনের মাত্র তিনদিন বাকি থাকতেই অনেক জায়গায় মাঠে নামানো হয়েছে গুণ্ডাদের। কাজে লাগানো হচ্ছে প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশকে। ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি নিজেদের দলীয় কর্মীদের শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে নাশকতার মামলা মোকদ্দমায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াতের মেম্বর-চেয়ারম্যানকেও হুমকির মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জেলা পরিষদের দিকে তেমন নজর দিতে পারেননি। সোমবার থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশন থেকে বলা হয়, কিছু কিছু অভিযোগ তারা মৌখিকভাবে জানছেন। কেউ অভিযোগ করুক না করুক নারায়ণগঞ্জের অর্জন ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না কমিশন।
প্রসঙ্গত. প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্দলীয় ও পরোক্ষভোটের বিধানে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা করে প্রার্থী নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও এ নির্বাচনে বিএনপিসহ অপরাপর কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য অংশ নিচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগেরই স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রার্থীর বাইরে দলের কারো প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ করেনি আওয়ামী লীগ। কিন্তু সরকারের ভেতরে কিছু কিছু সংগঠন, ব্যক্তি পছন্দের ব্যক্তিকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিংবা পরোক্ষভোটে পাস করিয়ে আনার কৌশল আঁটছেন।
বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, পরোক্ষ হলেও ভোটে যে উত্সাহ বা আগ্রহ থাকার কথা সেটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নিজেদের মধ্যে নিজেরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে একটি ভালো নির্বাচন করার বড় সুযোগ ছিল ছোট অর্থাত্ ৬১ জেলার এ নির্বাচনে। যদিও ইতোমধ্যে ২৫ জেলার চেয়ারম্যান বিনা ভোটে হচ্ছেন। আর সদস্য পদে ৯১৫ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩০৫ জনের মধ্যে ৫১ জনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সব মিলিয়ে ৬১ জেলা পরিষদে তিন পদে ২০৮ জন প্রার্থী বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অর্থাত্ নির্বাচনী গণ্ডি আরো সংকুচিত হয়ে আসছে। এরকম বাস্তবতায় নিরুদ্বিগ্ন একটি নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পক্ষান্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় গণতন্ত্রের জন্য হতাশাজনক বলছেন অনেকে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














