দিনাজপুরের দর্শনীয় কড়ই বিলের ৫ শতাধিক গাছ কেটে উজাড়
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৫-০৩-১৭ ০৯:১৮:৪৪
উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দর্শনীয় স্থান কড়াই বিলের পাঁচ শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বিরল থানা মুক্তিযোদ্ধা হাঁস-মুরগি ও পশুপালন খামার সমবায় সমিতির নেতাদের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয় লোকজন।
তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ বলছে, গাছ কাটার বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। তাদের অনুমতি না নিয়েই কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনাজপুর শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বিরল উপজেলায় কড়াই বিলের অবস্থান। জেলার ঐতিহাসিক রামসাগর, সুখসাগরের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেকটি স্থান এই বিল। বিশেষ করে শীতকালে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে। দেখতে আসেন বিভিন্ন এলাকার প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। বিলের চারপাশের গাছগাছালি পাখিদের অভয়ারণ্য। ৫৬ একর আয়তনের বিলটি স্থানীয় মানুষের ধান ও মাছের বড় উৎস। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিলের মাঝ বরাবর প্রায় ২৮ একর আয়তনের পুকুর খনন করা হয়। পাড়ে লাগানো হয় কয়েক হাজার ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছ। এসব উপেক্ষা করে গত আট দিন ধরে গাছগুলো কাটা হয়। এতে বাধা দেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। গাছগুলো কেটে ফেলায় দর্শনার্থীরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে শঙ্কা তাদের।
গত সোমবার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে কেটে ফেলা গাছগুলো জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি মামলা করেছেন।
দেখা যায়, পুকুরের পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে এখনও আমসহ বিভিন্ন জাতের অর্ধশতাধিক গাছ রয়েছে। আম গাছগুলোতে মুকুলও ধরেছে। পুকুরের চারপাশের পাড় ভেঙে গেছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘গাছগুলো যারা কেটেছে তাদের বিচার চাই। এখানে শীতকালে পাখি আসতো, এখন আসবে কিনা শঙ্কা আছে। গরমের সময় আমরা ছায়ায় বসতাম, নির্মল বাতাস পেতাম।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আলী আহসান আল মুজাহিদ বলেন, ‘গত সোমবার ঘুরতে গিয়ে গাছগুলো কাটছে দেখতে পাই। এরপর গাছ কাটা বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনকে জানাই। এসিল্যান্ড আমাদের জানান এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বন বিভাগও জানে না। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তা এখানে এসে কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র দেখে অনুমোদন না থাকায় গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। এটি পর্যটন এলাকা। যারা গাছগুলো কেটেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই আমরা।’
এ বিষয়ে বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘সরকারের খাস জমি থেকে গাছ কাটার অনুমতি নেওয়া হয়নি। যারা গাছ কেটেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। এই গাছগুলো সরকারি জমিতে। ভূমিসংক্রান্ত একটি মামলা চলমান আছে। গাছ কাটার ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আপাতত গাছ কাটা বন্ধ আছে।’
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













