চার বছর বয়সে মায়ের সাথে কারাবন্দী হন তারেক রহমান

সানবিডি২৪ প্রতিবেদকফাহমিদ জামান, স্টাফ রিপোর্টার: আপডেট: ২০২৫-০৪-২১ ১০:২৬:২২


পিতা ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান। তার মা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই পরিবারের সন্তান তারেক রহমান। তিনি ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে যিনি হাল ধরেছেন তার বাবার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে। তার জন্মের মাত্র ৪ বছরের মাথায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে মা খালেদা জিয়াসহ বন্দী হতে হয় তাকে। সেনা কর্মকর্তা বাবা জিয়াউর রহমান তখন দেশের শত্রু মোকাবিলায় রণাঙ্গনে। দেশ স্বাধীন হবার রাজনীতিতে পট পরিবর্তন হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। সাদামাটা জীবনের অধিকারী জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর স্বৈরাচার সরকারে বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর বিএফ শাহীন স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু হয় তারেক রহমানের। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখেন জিয়াউর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে আইন বিভাগে ভর্তি হলেও পরে তার উচ্চশিক্ষা চলে আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগে। ১৯৮৮ সালে দাদার বাড়ি বগুড়ার গাবতলী থেকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ করেন। ২০০২ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। সেনা সমর্থিত ১/১১ এর সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ গ্রেফতার করেন তাকে। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করে মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দিন সরকার। রিমান্ডের নামে নির্যাতনে চরম অসুস্থ তারেক ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান। এরপর থেকেই নির্বাসিত জীবন পার করছেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে টানা দেড় দশকের স্বৈরাচার শাসন আমলে দেশে ফিরতে পারেন নি তিনি। মাঝে ২০১৮ সালে দুটি মামলায় মা বেগম জিয়াকে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হলে যুক্তরাজ্য থেকে দলের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। তখন থেকেই দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনীতির নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে পোক্ত করার পাশাপাশি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজটিও করে গেছেন তিনি। লন্ডন থেকে নিয়মিত তৃণমূল কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছেন তারেক রহমান। ১৯৯৩ সালে ডা. জোবাইদা রহমানকে বিয়ে করেন তিনি। স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা ব্যারিষ্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে নির্বাসিত জীবনে তারেক রহমান হারিয়েছেন ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, বাবা ও মায়ের আদর্শকে ধারণ করে রাজনৈতিক জীবনকে যেমন গড়েছেন তারেক রহমান। তেমনি সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনায় পাশ্চাত্যের ধারায় নিজেকে গড়েছেন তিনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, তারেক রহমান তার মা ও বাবার গুণাবলী বুঝেছেন এবং অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি বাবা-মায়ের গুণে গুণান্বিত। একটা উদার রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ভবিষ্যতে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে সরকার চালানো এ দুয়ের জন্য যে মেধা দরকার তা তিনি বিদেশে থেকে অর্জন করেছেন।

পরিবেশ অনুকূলে থাকলেও তারেক রহমান এবার জন্মদিন পালন না করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে কঠোর বার্তাও প্রদান করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্দেশ অমান্য হলে শাস্তি দিতেও হুঁশিয়ারী ছিলো তার।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমার নাম বলার সময় কেউ দেশনায়ক বা রাষ্ট্রনায়ক কথাগুলো ব্যবহার করবেন না।’

এনজে