সিটি করপোরেশন হচ্ছে বগুড়া, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৫-০৪-২৭ ২১:৫৯:২৯
বাংলাদেশে নতুন সিটি করপোরেশন হিসেবে সংযুক্ত হচ্ছে বগুড়া। রোববার (২৭ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা।
গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১০ এপ্রিলে পাওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া পৌরসভা এলাকার ২১ টি ওয়ার্ডের মৌজামূহকে নিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো। এ বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের জানানোর অনুরোধ করা হলো।
বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাটি ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে পৌরসভাটি ক শ্রেণীর মর্যাদা পায়। কালক্রমে আয়তন বাড়তে বাড়তে ২০০০ সালে আয়তন দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। এরপর ২০০৪ সালে বর্ধিত করে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া পৌরসভা প্রায় ৭০ বর্গ কিলোমিটার। সিটি করপোরেশনের জন্য আয়তন হতে হয় কমপক্ষে ২৫ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ১০ লাখ। কিন্তু বাস্তবে এই পৌরসভায় বেশি জনবসতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের চেয়ে আয়তনেও বড়।
‘ক’ শ্রেণীর এই পৌরসভাটি আয়তন বড় হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অন্যান্য পৌরসভার মতই বরাদ্দ পেয়ে থাকে। বগুড়া পৌরসভার সব মিলিয়ে রাস্তা আছে ১৩৪০ কিলোমিটার। এরমধ্যে পাকা রাস্তা আছে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। কাঁচা সড়ক ২৮৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। কাঁচা সড়কগুলো অধিকাংশ পৌরসভার বর্ধিত এলাকায় রয়েছে। এছাড়া আরসিসি ১৫৫ কিলোমিটার, ইটপাড়া সড়ক ১৭০ কিলোমিটার, সোলিং রাস্তা রয়েছে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পৌরসভার বার্ষিক আয় ৬০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
বগুড়া পৌর এলাকায় রয়েছে সিরামিক, হিমাগার, ২৭২টি ফাউন্ডিশিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধশিল্প (অ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি ও হারবাল), অটো রাইস মিল, ফ্লাওয়ার মিল, রাইস ব্রান ওয়েল মিল, প্রাণিসম্পদ শিল্প, অক্সিজেন রিফাইনারি প্লান্ট, রিয়েলে এস্টেট শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ চারটি সরকারি কলেজ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলসহ দুটি সরকারি হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, শপিং মল, ফাইভ ও ফোর স্টার হোটেল রয়েছে একাধিক।
উত্তরের ১৬ জেলার প্রাণ হয়ে থাকায় বগুড়াবাসী বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তুলে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা প্রস্তাবনাটি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সম্মতি দেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিষয়টি আমলে নিয়ে বগুড়ার ডিসিকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তি জারি ও স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন চেয়ে গত ১০ এপ্রিল চিঠি প্রদান করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর থেকে স্বপ্নটি আরো বড় পরিসরে দেখছেন বগুড়াবাসী। আজ সেই প্রত্যাশিত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করল জেলা প্রশাসন।
গণবিজ্ঞপ্তি জারির ৪৫ দিন পর স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে তা পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে। ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হবে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে।
তাদের সম্মতি সাপেক্ষে সীমানা নির্ধারণ করে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এদিকে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনে গণবিজ্ঞপ্তি তৈরি করা প্রায় শেষ। বগুড়া পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার জানান, আওয়ামী লীগের সময়ে বৈষম্যের শিকার হয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসী। তাই উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া পৌরসভাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি উল্লেখ করে বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, সিটি করপোরেশনের সীমানা চূড়ান্ত করতে মৌজাভিত্তিক কাজ করা হয়েছে। বগুড়ার সিটি করপোরেশন এখন সময়ের বিষয় মাত্র। বঞ্চিত থেকে বগুড়ার উন্নয়ন হবে এখন। সিটি করপোরেশন গঠনের মাধ্যমে বগুড়ার উন্নয়নে আরো ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













