বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার পুরো দেশ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৫-০৪ ২১:৪৪:৩৪


ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবি। দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। সেইসাথে বাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা। গণমাধ্যমে বাজার সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তব্যে এটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্টসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সকলেই এখন বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছেন। সেইসাথে কেউ কেউ পুঁজিবাজারকে ঠিক করতে বিদেশী এক্সপার্টের সহায়তা নেয়ার দাবিও তুলেছেন।

আল-জাজিরায় কর্মরত সাংবাদিক জুলকারনাঈন সায়ের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদের চরম ব‍্যর্থতার কারণে শেয়ার মার্কেটের পরিস্থিতি চরম সংকটে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এদের সরিয়ে দিয়ে স্টক ট্রেডিংয়ে দক্ষ ও মার্কেটের পালস সম্পর্কে সচেতন উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে সমস্যাটা কোথায়?

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও বর্তমান চেয়ারম্যানকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে। গত পহেলা মে সংগঠনটির ফেইসবুক পেজ থেকে বলা হয়, দ্রুত যোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব দিন—বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঐ পদে রেখে শেয়ারবাজার আর ধ্বংস হতে দেওয়া উচিত নয়, এবং এ দেশে কোনো স্বজনপ্রীতি চলবে না।

অনলাইন এক্টিভিস্ট ও সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের পুজিবাজারে সিরিয়াস সংষ্কার দরকার। কিছুদিন পরপর বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারাবে এইটা চলতে পারেনা। বাংলাদেশের অর্থনীতির দাড়ায়ে থাকার কথা এই পুজিবাজারের উপরে আর সেই পুজিবাজার হইয়া উঠছে একটা অর্থনৈতিক কৃষ্ণগহ্বর। টাকা ঢুকলে আর ফিরে না।

গত বছরের ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুঁজিবাজারে চলছে পতন। গত আট মাসে কোন নতুন আইপিও নেই, মূল্যসূচকে চলছে পতন। সেইসাথে বাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। গত এপ্রিল মাসেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা হারিয়ে গেছে। এসময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৩০১ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। ১০১০ সালের পর পুঁজিবাজারে এমন অচলাবস্থা দেখেননি বাজার সংশ্লিষ্টরা। এই অচলাবস্থার পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানকেই দায়ী করছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই তার পদত্যাগের দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির সামনে বিক্ষোভ, অর্থ উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান, মহাসমাবেশ এমনকি বিএসইসি চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাপিট্যাল মার্কেট ইনভেস্টর এসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা মাঠে নেমেছি জীবনের মায়া করে না বা কোন ব্যক্তি স্বার্থে না। ৩০ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, এরপরে যে আন্দোলন হবে বিএসইসির চেয়ারম্যান তা চিন্তাও করতে পারবে না। কি ধরণের আন্দোলন আমরা করব তা চিন্তাও করতে পারবে না। এটা আমরা বলে দিয়েছি।

বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের কারণেই যে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরছে না তা বোঝা যায় তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জনে সূচকের উত্থান। গত সপ্তাহে প্রথম কার্যদিবস রবিবারে রাশেদ মাকসুদ বিএসইসি থেকে পদত্যাগ করেছেন এমন গুঞ্জনে সূচকে উত্থান ঘটে। এদিন তাঁর পতদত্যাগের গুঞ্জনে প্রধান মূল্যসূচকে ২৩ পয়েন্ট বেড়েছিল। এ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবারেও রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেছেন এমন গুজবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৫৬ পয়েন্টে। যা আগের দিন কমেছিল ১৮ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কমিশনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক নাই। তাঁরা সংস্কারই করে যাচ্ছে। সংস্কারের ফলাফল যদি দেখা যায় তা তো দুই চার কিংবা পাঁচ বছর পর দেখা যাবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা তাৎক্ষণিক। এই সমস্যাটাকে দৃষ্টিপাত করা হয়নি। তাই পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের দাবি জানান তাঁরা।

এম জি