পুঁজিবাজার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির ১১ দফা সুপারিশ
আপডেট: ২০২৫-০৫-১০ ১৯:৩৯:০৭
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকট ও সুপ্ত সম্ভাবনা এবং সরকারের করণীয় বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (১০ মে) বাংলাদেশ ক্যাপিট্যাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ক্যাপিট্যাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন দলটির যুগ্ন মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
সাংবাদিক সম্মেলনে সুপারিশসমূহ তুলে ধরার পূর্বে নিজ ব্যক্তব্যে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান সময়ে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আস্থাহীনতা।
বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের প্রতি ইঙ্গিত করে আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, বিনিয়োগকারীদের দেশে নিয়ে আসেন। তাদেরকে বলেন যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আর কোন জটিলতা থাকবে না। বিডা বিনিয়োগ সম্মেলন করছে আপনারা কেন পারছেন না?
বিএসইসি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিএসইসিকে বলব আপনারা বিনিয়োগকারী, ডিএসই ও ব্রোকারদের সঙ্গে বসেন। আপনারা নিয়মিতভাবে বসেন। আপনাদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো দরকার। আপনাদের যোগাযোগ দক্ষতা খুবই দূর্বল। আপনাদেরকে সাংবাদিকদের সাথে বসতে হবে। ইনস্টিটিউশনগুলোর সাথে বসতে হবে। কিভাবে বাজারকে উন্নত করা যায় এগুলো নিয়ে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কাউকে পাত্তা দেবেন না, তা হবে না। পরে তিনি বর্তমান সংকটময় সময়ে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কিছু বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার দাবি জানান। এসময় কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।
এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে-
১. শেয়ার ক্যাটাগরি নির্ধারণে শুধুমাত্র ডিভিডেন্ডের ভিত্তিতে নয়, বরং কোম্পানির দেউলিয়াত্ব বা বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) না করা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সূচককে বিবেচনায় আনতে হবে।
২. ক্যাপিটাল গেইন ও ডিভিডেন্ড ইনকামে দ্বৈত কর পরিহার করে বিনিয়োগকারীদের জন্য করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে।
৩. মিউচ্যুয়াল ফান্ডে পেশাদার ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং যেসব ফান্ডে অর্থের অপব্যবহার হয়েছে, সেগুলোর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে। একইসাথে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ডে কর রেয়াত দিতে হবে।
৪. তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারে আরও বেশি পার্থক্য আনতে হবে, যাতে আরও কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয়।
৫. অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটিজের (REITs, Sukuk ইত্যাদি) ট্রান্সফারে কর মওকুফ করতে হবে, যাতে বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের বিকাশ ঘটে।
৬. অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ সংস্কার ও দেউলিয়াত্ব আইন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংক ও কর্পোরেট রিকভারি প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে হবে।
৭. কারেন্সি ট্রেডিং ও শর্ট সেল চালু করে বাজারে তরলতা বাড়াতে হবে, যেন বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়।
৮. ডিমান্ড সাইড শক্তিশালী করতে প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ড, সোভারেইন ওয়েলথ ফান্ড (SWF) ও বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগে কর কাঠামো স্থির ও বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে।
৯. ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে পরিহার করতে হবে, কারণ এটি বাজারের স্বাভাবিক গতি ও আস্থার পরিপন্থী।
১০. স্থানীয়ভাবে ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হবে।
১১. বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার, এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি আস্থাশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজার গড়ে তুলতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্যাপিট্যাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













