অলস ১৬৬ কোটি টাকা: সাড়া নেই প্রণোদনায়

|| প্রকাশ: ২০১৫-১০-২৬ ১০:৫৪:৫৮ || আপডেট: ২০১৫-১০-২৬ ১০:৫৪:৫৮

DSE.Sunbd২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। ৯০০ কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে আশানুরূপ আবেদন পড়েনি।

ফলে এখনো ১৬৬ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে খুব একটা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে বাজারের পরিস্থিতিও তেমন নয় যে, বাজার থেকে মুনাফা করে কিস্তি দেওয়া সম্ভব। তাই অনেকেই এ ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হননি।

জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যাদের ইক্যুইটি বেশি ঋণাত্মক, তাদের মধ্যে এ ঋণ নেওয়ার আগ্রহ নেই বললেই চলে। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কাছ থেকে নেওয়া মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ ও ঋণ পরিশোধে পুনরায় সুদে (যদিও স্বল্প সুদ বা ৯ শতাংশ) ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ খুব কম।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমে যাওয়ায় এখন তহবিলের ঋণের চাহিদা নেই। ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কম সুদে ঋণ দিচ্ছে। যে কারণে প্রণোদনার ঋণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের কোনো আগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য, সরকার ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ স্কিমের ঘোষণা দেয়। সরকারি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃ অর্থায়নের তিন কিস্তি বাবদ ৯০০ কোটি টাকা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দেয়। এ তহবিলের মেয়াদ তিন বছর। অর্থাৎ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রণোদনার এই অর্থ ব্যবহার তদারক করতে কমিটি গঠন করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মহাব্যবস্থাপক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, বিএসইসির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইসিবির উপমহাব্যবস্থাপক তারেক নিজামউদ্দিন আহমেদ।

এই টাকা নিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঋণের জামানত হিসেবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক-ব্রোকারকে কর্পোরেট গ্যারান্টি দিতে হবে, ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বিএসইসি সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করতে পারবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের (মার্চেন্ট ব্যাংক/স্টক ব্রোকার) নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

আইসিবির দেওয়া সবশেষ তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ঋণের আবেদন পাওয়া গেছে ৭৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বাকি রয়েছে ১৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গত দুই বছরে বারবার তাগাদা দিয়েও ওই তহবিল থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

ব্রোকারেজ হাউসগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কম সুদে ঋণ দিচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও মোহাম্মাদ আলী। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে এ ঋণ নেওয়ার জন্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্মকর্তারা আইসিবিতে আসা-যাওয়া করতেন। নানা শর্তের কারণে অর্থ না পেয়ে তারা ব্যাংকঋণের দিকে ঝুঁকছেন।’

এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সরকারের এ প্রণোদনা থেকে ঋণ নিতে হলে বিনিয়োগকারীদের নানা শর্তের বেড়াজালে পড়তে হয়। আবার সুদের হারও বেশি। এসব কারণে এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে এলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস