যাকাত চালু হলে ৫০ বছর যাকাত নেওয়ার লোকই থাকবে না: মোবারক হোসাইন

সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৫-০৫-২৫ ০৯:১৪:৩৩


ইসলামিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি যাকাত, এটি যদি চালু করা যায় তাহলে আগামী ৫০ বছর যাকাত নেওয়ার লোকই থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন।
শনিবার (২৪ মে) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচকের বক্তাব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়েত ইসলাম ভালোভাবেই জানে যাকাত ব্যবস্থার সুফল, ইসলামিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি যাকাত, এটি যদি চালু করা যায় তাহলে আগামী ৫০ বছর যাকাত নেওয়ার লোকই থাকবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা তা রোধ করতে হলে যে টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে তা রোধ করতে হবে। তাহলে অর্থনৈতিক দিক ঠিক হবে। এটা রোধ করবে কারা? যারা পাওয়ার শেয়ার হোল্ডার, রাজনৈতিক দল যারা পাওয়ার শেয়ার করবে এবং যারা অপজিশন দল সবাই মিলেই এটা রোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখি, সম্পদ আহরণের ফলে সেই সম্পদ কিভাবে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যদি অবৈধ সম্পদ আহরণ রোধ করতে পারি। ৮ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট, এর মধ্যে ২৫% টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। আমরা যদি এটি রোধ করতে পারি, তাহলে অর্থনীতি নিয়ে এত টেনশন করতে হয় না আমাদের।
তিনি আরও বলেন, আগে অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ হারিয়ে রাস্তায় মিছিল করেছে, অনেকে আত্মত্যাও করেছে, তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।

এসময় তিনি জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশগুলো হলো, ইসলাম সুদকে হারাম করেছে, ব্যবসাকে হালাল করেছে। ব্যবসায় ঝুঁকি থাকবে আবার লাভও থাকবে। ব্যবসা হবে ন্যায়ভিত্তিক, ঝুঁকি যুক্ত। সুদবিহীন ব্যাংক ব্যবস্থা, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা চালু করা যায় তাহলে আমি মনে করি অর্থনীতিতে সংকট থাকবে না।
দ্বিতীয়ত, শরীয়াহ অনুযায়ী বিনিয়োগ ও অবৈধ ব্যবসা, মদ জুয়া ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা যায়। তৃতীয় সুপারিশে সম্পদের ন্যায্য বন্টনের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, যদি ভারসাম্যপূর্ণভাবে সম্পদ বন্টন করা হয়, তাহলে অর্থনীতি অনেক উন্নত হবে। চতুর্থ সুপারিশে ওয়াকফ ও সদাকাহ এবং যাকাতের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।