এশিয়ার ভবিষ্যৎ আমরা একসঙ্গে লিখবো: প্রধান উপদেষ্টা
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৫-২৯ ১০:৪৭:০৩
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যতের দিকে তাকালে আমি বিশ্বাস করি, মিলিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং সমৃদ্ধির নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচনে এশিয়ার দেশগুলো আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। এক অভিন্ন ভবিষ্যৎ এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সুস্পষ্ট পথ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা আমাদের চারপাশের অশান্তি দেখে হতাশ না হই। এশিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও লেখা হয়নি, আমরা একসঙ্গে লিখবো। বাংলাদেশ ও জাপান এশিয়ার ভাগ্য এমনকি বিশ্বের ভাগ্য পুনর্লিখনে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাপানের টোকিও’র ইম্পেরিয়াল হোটেলে নিক্কিই ফোরামে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান।
এ সময় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্ব ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠছে। আমরা চরম অনিশ্চয়তার সময় পার করছি। আমরা এমন একটি বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছি যেখানে শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে, উত্তেজনা বাড়ছে এবং সহযোগিতার নিশ্চয়তা সবসময় নেই। এশিয়া ও এর বাইরের অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে, শান্তি অধরা হয়ে পড়ছে। যুদ্ধ ও মানবসৃষ্ট সংঘাত ইউক্রেন, গাজা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস করছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ইতোমধ্যে গভীর মানবিক সংকটকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অতিসম্প্রতি, আমাদের দুই প্রতিবেশী একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ব্যয়বহুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে, আমরা যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছি, আমাদের লাখ লাখ মানুষকে অনাহারে রাখছি। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় অব্যাহত শান্তি, স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আশাবাদ ব্যক্ত করায় আমি দু’দেশের নেতাদের ধন্যবাদ জানাই।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, তবুও নতুন নৈতিক দ্বিধা উত্থাপন করে। বাণিজ্য বিধিনিষেধের উত্থান মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মূল ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে চলেছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বিস্তৃত হচ্ছে, বৈশ্বিক আস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাতিগুলোর মধ্যে, সমাজের মধ্যে এবং এমনকি নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন বিভক্তি, অসন্তোষ ও অস্থিতিশীলতা প্রত্যক্ষ করেছি যার ফলে সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
বাংলাদেশে গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং ফলশ্রুতিতে আমার সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। আমরা আমাদের জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ, জনগণের ন্যায়বিচার, সাম্য, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রে সুষ্ঠুভাবে উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কঠোর পরিশ্রম করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এটি ভুলগুলো সংশোধন করার, নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করার এবং একটি ন্যায্য সমাজের স্বপ্ন উপলব্ধি করার একটি সুযোগ। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালন করছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তিবিনির্মাণ মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখছে এবং সম্পূর্ণরূপে মানবিক কারণে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














