আমাদের লজিস্টিক ব্যয় উন্নত বিশ্বের চেয়ে বেশি: বাণিজ্য উপদেষ্টা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৬-২৫ ২১:০৩:১৭


অন্তবর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় অনেক বেশি। দুঃখজনকভাবে আমাদের লজিস্টিক ব্যয়ও উন্নত বিশ্বের চেয়ে বেশি। আমাদের দেশের যত গঞ্জ আছে সেগুলো একেকটি লজিস্টিক হাব। আমাদের দেশে ২ শতাধিকের বেশি নদী আছে। এগুলো ব্যবহার করলে আমাদের ২০ কোটি জনসংখ্যার দেশের জিডিপির আকার বাড়বে।

বুধবার (২৫ জুন) বিকাল ৩টায় রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার ফোরাম ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত “অটোমোবাইল পলিসি ফর গ্রিণ গ্রোথ এন্ড কম্পিটিটিভ ইকোনমি” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের অর্থনীতির সাইজ নিয়ে আমি খুবই কনফিউজড। আমি আসলে জানিনা, অর্থনীতিবিদরা ভালো জানেন। আমাদের অর্থনীতির কৃষি, শিল্প ও সেবা একটা সমন্বিত নিয়ামকের মাধ্যমে পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। এর সাথে সাথে গ্যাস, বিদ্যুত এবং পানিকে আমাদের সম্বন্বিতভাবে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের খনিজ সম্পদ তেমন নাই। তবে আমাদের বড় ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট আছে। এটাকে যদি আমরা ব্যবহার করি, তাহলে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমরা শ্রমশক্তির ব্যবহার করে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারি তাহলে আমাদের অসম্ভব সুন্দর একটা ভবিষ্যত অপেক্ষা করেছে।

তিনি আরও বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্টের নিয়ামকগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্টে পেতে গেলে যে নিয়ামকগুলো দরকার সেগুলো আছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ইশতেহার আসে বাজেট থেকে। এটা আমাদের একটা নীতির অংশ। অটোমোবাইল আমাদের অর্থনীতির ছোট একটি অংশ। আমাদের পলিসি ডাইভারশেন করতে হবে। আমাদের নিয়ামকগুলোকে সুনির্দিষ্টকরণ করে প্রয়োজনীয় নীতিকে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের বন্দর, গঞ্জ ,নদীকে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের দেশে সমুদ্রগামী জাহাজ আছে মাত্র ১০১ টি। বাংলাদেশের জাহাজ মালিকরা মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। কেন তারা ৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করতে পারে না। আমরা কেন নদীভিত্তিক গুদামজাতকরণ করি না? খাদ্য পণ্য, সার ইত্যাদি নদীভিত্তিক ট্রান্সপোর্ট করতে হবে। তেলের পাপলাইন তৈরিসহ এগুলো সামগ্রিকভাবে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। আমদের খরচের উদ্বৃত্ত তৈরি করার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।

অর্থনীতিতে ১৬ বছরে ক্রিমিনালাইজেশন হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নীতির ডাইভারশেন করতে হবে। আমরা উচ্চমূল্যের এমন সব বিনিয়োগ করেছি যা খরচের উদ্বৃত্ত তৈরি করে না।ঋণের নামে মেট্ররেল করতে গিয়ে আমরা এক টাকার বিনিয়োগ বিশ টাকায় করেছি। আমরা যে পরিমাণ অর্থনৈতিক দায় তৈরি করেছি যার বিনিময়ে আমাদের জাতীয় আয়ের সর্ববৃহৎ ব্যয় হচ্ছে দায় পরিশেধে চলে যাচ্ছে। দেশীয় ও অন্তর্জাতিক ব্যয় পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের এই অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য সকলকে বিষয়টি কথা বলতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হক, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল চৌধুরী এবং উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে ভারভিডা সভাপতি আব্দুল হক বলেন, বাংলাদেশে ৭৫ শতাংশ গাড়ি জাপান থেকে আসছে। এতে ফরেন এক্সচেঞ্জ বাহিরে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য কথা চিন্তা করে আগামীকে অটোমোবাইলের সহনীয়ন পলিসি ঠিক করতে হবে। আমাদের সবকিছু বাহিরে থেকে ইমপোর্ট না করে দেশে তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। একেত্রে ট্রেনে যন্ত্রাংশ আগের মতো দেশে তৈরি করতে হবে। টেকনোলজি এনে যন্ত্রাংশ তৈরি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, আমাদের দেশের যানবাহনের এখন কোন কন্ট্রোল নাই । এখানে কন্ট্রোল করার মতো কেউ নাই। দেশে কতসংখ্যাক গাড়ি, বাস ইত্যাদি রয়েছে সেটার সঠিক তথ্য কেউ জানে না।আমাদের গাড়ি চালানো এবং রক্ষণাবেক্ষণে সচেতনতা নাই। সরকারের পারস্পরিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে সম্বন্বয় নাই। যার ফলে যানবাহনের সার্ভিস ফ্যাসিলিটি উন্নয়ন হয়নি । এখন দেশে সরকারের সহযোগিতায় প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের যন্ত্রাংশ তৈরি করার সম্ভব। আমাদের দেশে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বেশি যেটা অন্যান্য দেশে কম। ব্যয় কমাতে ও পরিবেশ দূষণ রোধে দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের এখন চিন্তা করার সময় এসেছে। এজন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।

বিএইচ