অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এনবিআর চেয়ারম্যানের

আপডেট: ২০২৫-০৬-২৬ ১৭:৪২:১১


আপনারা জানেন আমি খুব ঝামেলায় আছি। এনবিআর সংস্কার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছু জায়গায় দ্বিমত আছে। আজ বিকাল ৫ টায় বসার কথা। আশা করি এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান পাব।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক সেমিনারে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ইয়্যুথ পলিসি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও ভ্যাট” শিরোনামে এক সেমিনার আয়োজন করেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট অ্যাসোসিয়েশনের শফিকুর রহমান ভূইয়া।

সেমিনারে ইয়্যুথ পলিসি নেটওয়ার্কের সভাপতি ইমরুল হোসেন গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ।

সেমিনারে ইয়্যুথ পলিসি নেটওয়ার্ক নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারে ভ্যাট কমানোর দাবি জানান। গবেষণায় বিস্কুট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারে চাহিদা, ভ্যাট বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট অ্যাসোসিয়েশনের শফিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, আমি ভ্যাট করানোর দাবির সাথে এক মত আপনাদের দাবি যথার্থ। যখন বেড়েছে যখন কমানো জন্য আন্দোলন করেছি। যার ফলে ১৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশে আনা হয়েছিল। সরকার যদি প্রয়োজনীয় খাদ্য ভ্যাট ছাড় দেয় ভালো হয়। যদি একবারে না পারে তাহলে ৩ শতাংশে রাখুন। জিরো করতে পারলে ভালো । ৭০ শতাংশ মানুষ চায় এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর পক্ষে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, এই গবেষণার সাথে আমি এক মত। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে আমরা কিছু জায়গায় ভ্যাট বাড়িয়েছি। আমরা যখন পলিসি নির্ধারণ করি যখন আমাদের অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়। প্রথমত, আগামী বছর বাজেট করার সময়, আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণের রাজস্ব আহরণ করতে হবে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতিও মানতে হয়। ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ করতে হবে। আমরা এই বছর অনেক কিছুতে সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটারি শুল্ক কমিয়েছি। আবার গরিবদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে ভ্যাট বাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, অনেকে দাবি করেছেন, গরিবের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে ভ্যাট উঠিয়ে দিতে। তাহলে দেশের কি অবস্থা হবে। এবার প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়েছে। তার মধ্যে ৫ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব বোর্ড যোগান দিবে। আরো ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। তাহলে চলতি ঋণের সাথে আরো ৩ লাখ কোটি যোগ হলো। এই ঋণের সুদ যোগ হবে। আমরা দিন দিন ঋণগ্রস্ত জাতি হচ্ছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের দিকে বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছি। বিস্কুটের বিষয়ে যেটা আসল। আমরা তা ১৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ করে দিয়েছিলাম। আমাদের সিস্টেমে সমস্যা আছে ।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সবকিছু চাইলে করা যায় না। বিশেষ করে যখন পুরো জাতি সম্যাসায় আছে ও ঋণগ্রস্ত যখন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবার হয়তো অসম্ভব। আমাদের সামনে সুযোগ থাকে একবারে উঠিয়ে দিলে ভালো হয়।

তিনি আরও বলেন,আমরা এবার অনেক পণ্যে ভ্যাট,শুল্ক কমিয়েছি। বাজেটের আকার বাড়লে জনগণের ওপর চাপ বাড়বে। ইতিহাসের প্রথমবারের মত এবার বাজেটের আকার কমিয়েছে। এটি সরকারে একটি আয় যার ফলে ঋণ বোঝা কমবে। এক্সাইজ ভ্যাটের বিষয়ে অনেকে বলেন এটা তুলে দিতে। তুলে দেওয়ার পর যে পরিমাণের রাজস্ব হারাব তাও চিন্তা করতে হয়। সব দিক চিন্তা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেভাবে মানুষ স্বস্তি পায়,ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যবসা বান্ধব সুবিধা পায়। কর দাতারা যাতে কর দিতে ঝামেলা না পোহাতে আমরা তা করার চেষ্টা করছি। অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছি। যার মাধ্যমে ১৭ লাখ মানুষ রিটার্ন দিয়েছে। আমাদানি-রপ্তানি সহজ করতে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করেছি। যেটির মাধ্যমে লাইসেন্স ও অন্যান্য ভেরিফিকেশন করতে পারবে। ৩ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা আহরণ করা হয়েছে ২৫ জুন পর্যন্ত। এবারে সমস্যা জিডিপি বৃদ্ধি কম। আন্দোলনের কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমি আশা করি আমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করব।

বিএইচ