জোয়ারে প্লাবিত লক্ষ্মীপুরের উপকূল, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৫-০৭-২৭ ১৩:১৩:১৫


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর ও রামগতি উপজেলার নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গত তিনদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।

শনিবার বিকেল থেকে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। নদীর তীরঘেঁষা অনেক বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে পানি কিছুটা নামলেও দুর্ভোগ কমেনি।

কমলনগরের মধ্য ও পশ্চিম চরমার্টিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ারের পানি হু হু করে লোকালয়ে ঢুকছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরের উঠানে ও রাস্তায় পানি জমে আছে। অনেক পুকুর উপচে মাছ বেরিয়ে গেছে।

চরমার্টিন এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, জোয়ারে ঘরে পানি ওঠে, রান্না-বান্না ও গবাদি পশু রক্ষায় ভোগান্তি হয়। এখন আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে সরকার ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করলেও বাঁধ নির্মাণে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর পাঁচজন ঠিকাদার কাজ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এখনো কয়েক কিলোমিটার এলাকায় বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি। যেগুলো চলছে, তাও অত্যন্ত ধীরগতিতে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান বলেন, আগে মানুষ এত পানি দেখেনি। এ বছর বাঁধ নির্মাণকাজে ধীরগতির জন্য ৮টি কাজ বাতিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৪০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে।

উপকূলীয় এ এলাকায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এনজে