শ্রীপুরে বাবার মৃত্যুর খবর শুনে ছেলেরও মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৫-০৮-০৪ ১০:২০:৫১


গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবা হাসমত আলীর (৮৩) মৃত্যুর খবর শুনে দুই ঘণ্টা পর ছেলে বাবুল মিয়া (৪৮) হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবরে ধামলই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে বাবা-ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। রবিবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাবা হাসমত আলী শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এবং ছেলে বাবুল মিয়া টঙ্গী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিলেন।

স্থানীয়রা বলেন, বাধ্যক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন যাবত হাসমত আলী দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। পাশাপাশি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। সকালে হঠাৎ বাবার মৃত্যু হয়। স্বজনেরা বাবুল মিয়াকে তার বাবার মৃত্যুর খবর জানালে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর তাঁর বুকে ব্যথা শুরু হলে স্বজনেরা তাঁকে দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুর খবরে ধামলই গ্রামের সকল শ্রেণী পেশার লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (৬ নং ওয়ার্ড) আলম খান লেন, বাবুল সবসময় তাঁর বাবার খোঁজ খবর রাখতেন। হঠাৎ করে তার বাবার এমন চলে যাওয়া যেন তার সহ্য হয়নি। বাবুল যেন তাঁর বাবাকে একা যেতে দিলেন না। সত্যিই বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুর খবর যেন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সময়ে জানাজা শেষে পাশাপাশি দুটি কবর বাবা-ছেলেকে দাফন করা হয়েছে। দাফনের সময় উপস্থিত সকল মুসুল্লীরা কেউ তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। দলিল লেখক হিসেবে আমৃত্যু বাবা-ছেলে ধামলইসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের সবসময় সেবা করেছেন।

এনজে