আইন দিয়ে নয়, প্রয়োগেই রাজস্ব আদায় সম্ভব: এনবিআর চেয়ারম্যান
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৮-০৪ ২১:১৮:১০
প্রয়োগ ছাড়া শুধু আইন দিয়ে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে এনবিআর ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে আয়কর, মূসক ও কাস্টমস বিষয়ক এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন- ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, আমরা যেগুলোতে কর বাড়িয়েছি সেগুলো স্থানীয় শিল্পকে রক্ষা করার জন্য। বন্ড ওয়ার হাউজের অপব্যবহার করা হয় প্রচুর। এই বিষয়ে আমরা নীতিগত পলিসি নিয়েছি। আমাদের পলিসি যথেষ্ট আছে। কিন্তু এখন মাঠ পর্যায়ে অপারেশন বাড়াতে হবে। এখানে আমাদের বড় দুর্বলতা।
তিনি বলেন, এবার নীতিগত ও ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে কত আহরণ বাড়বে তা হিসাব করা হয়নি। গত বছর আমরা আশা করেছিলাম টোবাকোতে প্রচুর কর আসবে। ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বছর শেষে আসেনি। টোবাকো আগের বছর থেকে কম হয়েছে। অর্থাৎ আইন করে কিছু হবে না। মাঠে অপারেশন বাড়াতে হবে। তাই আমরা অটোমেশনের দিকে জোর দিচ্ছি।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন ,অনলাইনে করা রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিস্টেম ডেভেলপ করছে আমাদের ছেলে মেয়েরা এবং কর্মকর্তারা। বিদেশি সাহায্য বা তেমন বাজেট নেওয়া হয়নি। রিটার্ন দাখিলে সমস্যা হতে পারে মাঝে মধ্যে। এটা স্বাভাবিক। নতুন সিস্টেমে সমস্যা হয়। আমরা সাথে সাথে সমাধান করার চেষ্টা করব।
কর ফাঁকি ধরতে সবাই কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা কার্যক্রম থেকে আহরণ হচ্ছে। রাজস্ব গোয়েন্দারা বিশেষভাবে কাজ করে। এছাড়া সব কর্মকর্তা কাজ করে। সবাইকে ক্ষমতা দেওয়া আছে। তারা ভালোই কাজ করছে।
এছাড়া আব্দুর রহমান খান বলেন, অটোমেশনের জন্য ১০০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। এটা অটোমেশনের জন্য খরচ হয়েছে। এই খাতে পরামর্শকদের অনেক টাকা দেওয়া হয়েছে। কারণ অনেক পরামর্শক লেগেছে। আমরা অটোমেশনের জোর দিচ্ছি। ক্যাপিটেল ইন্ডাস্ট্রি নামে অন্য জিনিস আনার ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্ট বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে তো আইন আছে। কিন্তু প্রয়োগ কম। তা বাড়াতে না পারলে, আসলে কর-জিডিপি রেশিও বাড়ানোর ধারে কাছেও যেতে পারব না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই অর্থবছরে অনেক সেক্টরে জরিমানা কমানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবিতে প্রেক্ষিতে জরিমানা কমানো হয়েছে এবং যুক্তিক জরিমানা করা হয়েছে। এটার কারণ জরিমানা বেশির কারণে ব্যক্তিগত লেনদেন হয়। দুর্নীতি সুযোগ বাড়ে। তাই ব্যক্তিগত লেনদেন কমাতে এটা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এবার ১৫২ টি পণ্যে অগ্রিম আয়কর বসিয়েছি। পরে কটনে কমনো হয়েছে। কারণ বুঝার ভুল ছিল। পরে ভুল বুঝতে পারলে আমরা বাদ দিয়ে দেই। আমাদের ধারণা, আমদানি করে বিক্রি করে। কিন্তু ওরা পণ্যও তৈরি করে। এগুলো রাষ্ট্রীয় স্বার্থে করা হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুধু সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে এটা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, গত অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি এনবিআর। লক্ষমাত্রা পূরণ করা বাধ্যবধকতা নেই। এটা দেওয়া হয় যাতে আমরা টার্গেট নিয়ে কাজ করি। এবার আমরা আপারেশনে জোর দিব। আহরণ বাড়াতে আমরা সব ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সেমিনারে অর্থনীতি নিয়ে যারা ক্রমাগত সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনীতির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। আমাদের অনেক জুনিয়র অর্থনীতিবিদ, তারা কিছুই নাকি দেখেন না। আমি তাদের সবাইকে চিনি। ৭০ সাল থেকে শিক্ষকতা করি, সবাই আমার ছাত্র। যারা অর্থনীতিবিদ, কিছুই দেখেন না; দেখতে দৃষ্টি লাগে, অন্তর্দৃষ্টি। যদি দেখতে না চায়, দেখতে পারবে না।’
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি সাফল্যও প্রচার করা উচিত। সূক্ষ্ম বিষয় থাকতে পারে। ‘গ্লাসের অর্ধেক দিকটা না দেখে, পানি ভর্তি উপরের দিকে তাকান। শুরুই যদি করেন অনেক কিছু বাকি আছে, অনেক কিছুই নাই।
উপদেষ্টা বলেন, ক্রিটিসিজম আছে অনেকের ব্যাপারে বা অনেকে থাকে। আমি সব সময় বলি স্বচ্ছতা দিনের আলোতে বেরিয়ে আসে। আমার একটা কথা- সানশাইন ইজ দ্য বেস্ট এন্টিসেপটিক। যতই সেভলন ব্যবহার করি, ডেটল ব্যবহার করি, ড্রেসিংয়ের সময় দেখবেন ডাক্তাররা কিন্তু কিছু দেয় না; জাস্ট একটু মুছে দেয়।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া আরেকটু সহজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বয়স ৬৫ বছরের বেশি; হয়তো একটু পাব চেষ্টা করব। তবে ডিফিকাল্ট আমার জন্য। আমি শুধু টেলিফোনটায় মেসেজ নিতে পারি আর ইমেইল দিতে পারি। এর বেশি কিছু করলে, আটকে গেলে আমি পারি না। এটা কিন্তু সবার জন্য; আমি মনে করি যে এটা ইউনিভার্সাল একটা সিস্টেম। সবাই বুঝতে পারবে। কম্পিউটার ভাষা এমন ভাষা যে সবাই বুঝতে পারবে, এক্সেস করতে পারবে।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














