চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ভর্তি ও নবায়ন ফি কমানোর দাবিতে স্মারকলিপি

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৮-২৬ ২১:৩৩:০৭


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ভর্তি ফি ও নবায়ন ফি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং তা কমানোর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস এন্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ)।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১২ টায় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহম্মদ শহিদুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি ডাঃ আনোয়ারুল আজীমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ম্যানেজমেন্ট কমিটির ৮ সদস্যের ১টি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবু হুরায়রাহ্, আইবিডব্লিউএফ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মোঃ আমিনুর রহমান, এমসি সদস্য একেএম রফিকুন্নবী, চট্টগ্রাম মহানগরী আইবিডব্লিউএফের সহসভাপতি হুমায়ুন কবীর পাটোয়ারী ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী সাব্বির আহমেদ।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস এন্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডব্লিউএফ) গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাণিজ্যক সংগঠন আইন ২০২২ এর আলোকে প্রণীত বাণিজ্য সংগঠন বিধি ২০২৫ এর ধারা ১৪ উপধারা ৩ এ বর্ণিত বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যদের ভর্তি ফি ১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা এবং বার্ষিক চাঁদার হার ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের যথার্থতা আমাদের বোধগম্য নয়।

যেসব কারণে এই বিধিটি প্রযোজ্য নয় সেসব কারণ তুলে ধরে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত অ্যাসোসিয়েশনগুলো তাদের নিজস্ব ফোরামে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভর্তি ফি এবং বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করে থাকে। সেইসাথে জেলা চেম্বারগুলোর সদস্য হয় সাধারণত নতুন উদ্যোক্তা এবং এসএমই উদ্যোক্তা, যাদের মূলধনের পরিমাণ থাকে খুবই কম। ব্যবসার প্রয়োজনে চেম্বারের সদস্য ছাড়া তাদের সমগোত্রীয় এসোসিয়েশন গুলির সদস্য হওয়ার সক্ষমতা তাদের থাকে না। নতুন উদ্যোক্তা এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সদস্য ভর্তি ফি ১৫ হাজার টাকা এবং বার্ষিক চাঁদা ৫ হাজার টাকা পরিমাণ হিসেবে অনেক বেশি। এত বেশি ভর্তি ফি এবং বার্ষিক চাঁদা দিয়ে নতুন উদ্যোক্তা এবং এসএমএস উদ্যোক্তাদের জন্য চেম্বারের সদস্য হওয়ার পথ রুদ্ধ হলে তাদের ব্যবসার পথটিও কঠিন হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় জেলা চেম্বার এর জন্য এ বিধিটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চেম্বারের নতুন সদস্যদের এককালীন ভর্তি ফি ও বর্তমান সদস্যদের নবায়ন ফি অস্বাভাবিকভাবে বর্ধিত করা হয়েছে। ইতঃপূর্বে অর্ডিনারি মেম্বার এর ভর্তি ফি ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং নবায়ন ফি ছিল ৮০০ টাকা। এসোসিয়েট মেম্বারের ভর্তি ফি ছিল ৮০০ টাকা এবং নবায়ন ফি ছিল ৪০০ টাকা। হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সকল নতুন সদস্যের ভর্তি ফি করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা এবং সকল সদস্যের নবায়ন ফি করা হয়েছে ৫ পাঁচ হাজার টাকা। এই ধরনের ফি বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। এই বৃদ্ধি শতভাগ বা দুইশত ভাগ নয় বরং হাজার ভাগেরও বেশি বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল ট্রেড বডিগুলো দীর্ঘদিন থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের ক্লাবে পরিণত হয়েছিল। সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি পরিবারের স্বার্থে চেম্বারগুলোকে কুক্ষিগত করে ফ্যাসিবাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পরিণত করা হয়েছিল।

স্মারকলিপিতে ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ ফি বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর আলোকে প্রণীত বিধি ২০২৫ এর ধারা ১৪ উপর ধারা ৩ এর বর্ণিত সদস্যদের ভর্তি ফি এবং বার্ষিক চাঁদা সর্বোচ্চ ২০% বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে মতামত প্রদান করেন।

বিএইচ