ইআরএফের সেমিনারে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী

নির্ধারিত সময়েই এলডিসি উত্তরণ, সময় বাড়াতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৯-১৩ ১৭:১৬:৫২


নির্ধারিত সময়েই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আর পেছাতে গেলে শুধু যুক্তরাজ্য বা কয়েকটি দেশের সমর্থনে গ্রাজুয়েশন ঠেকানো যাবে না, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন জোগাড় করতে হবে। এত অল্প সময়ে সরকারের একার পক্ষে সময় বাড়ানো প্রায় অসম্ভব। তাই ব্যবসায়ীদেরকে নিজেদের বায়ার ও আমদানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে লবিং করার অহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। একইসাথে আগামী নির্বাচিত সরকার চাইলে এটা পেছানোর আবেদন করতে পারে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ।

আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত সরকারের সময় আইসিইউতে ছিল। ৫ আগস্ট সরকার সেখান থেকে সচল রেখেছে। একসময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির কারণে ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিল। গত এক বছরে দেশের অর্থনীতি এখন সচল রয়েছে। ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সরকার নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নেপাল ও লাওস যদি গ্রাজুয়েশন পেছানোর আবেদন করে, বাংলাদেশও তা করতে পারবে। তবে ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী লবিং ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, অতীতে ভুয়া ও বিকৃত তথ্য দিয়ে গ্রাজুয়েশনের পথে আনা হয়েছিল বাংলাদেশকে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানিতে জট দূর হয়েছে, ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং শুরু হয়েছে, কৃষি ও বন্ডেড সুবিধায় উন্নতি হয়েছে।

কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়ের উদাহরণ দিয়ে ড. আনিসুজ্জামান বলেন, এসব দেশ এলডিসি সুবিধা ছাড়াই সফল হয়েছে। বাংলাদেশও চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে। সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়াতে হবে। ভিয়েতনাম কম মজুরি দিয়েও প্রতিযোগিতায় এগিয়েছে, অথচ নানা সুবিধা পেয়েও বাংলাদেশ পিছিয়ে।

এসময় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, অতীতে ভুয়া তথ্য দিয়ে গ্রাজুয়েশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা ব্যবসায়ীদের ঝুঁকিতে ফেলেছে। রপ্তানি বাজার বড় হওয়ায় বাংলাদেশের ঝুঁকিও বেশি।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, গ্রাজুয়েশন হবেই, তবে সময় নির্ধারণে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে বসতে হবে। জ্বালানি সংকট ও কাস্টমস জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধাক্কা আসবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির (বাপি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রাজুয়েশনের পর বিদেশি কোম্পানিগুলো বেশি শুল্কের কারণে বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করতে পারে। এতে ওষুধের দাম বাড়বে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য অন্তত তিন বছর সময় বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রস্তুতির অভাবে হঠাৎ গ্রাজুয়েশন হলে রপ্তানি বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে। ভর্তুকি বন্ধ হলে বিপদে পড়বে ছোট ও মধ্যম শ্রেণীর প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

বিএইচ