কর্পোরেট করও অনলাইনে দেয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে
::সাইদুর রহমান নোমান প্রকাশ: ২০২৫-০৯-১৯ ১৮:৫৪:৪৩
- বাস্তবায়নে ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইমলাইন দিয়েছে এনবিআর চেয়ারম্যান
- মোট ট্যাক্স ফাঁকির ৫০ ভাগ কর্পোরেট ট্যাক্স: সিপিডি
- এনবিআর কর্পোরেট ট্যাক্সকে অটোমেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। এর কারণ হচ্ছে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে আর ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’না থাকে: মাজেদুল হক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে অটোমেশন পদ্ধতিতে জোর দিচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, অটোমেশনের মাধ্যমে করফাঁকি কমবে, করদাতারা সহজে হয়রানিমুক্তভাবে ঘরে বসে কর দিতে পারবেন। তবে করদাতারা অভিযোগ করছেন, প্রযুক্তিগত জটিলতায় সময় বেশি লাগছে।
কর ফাঁকির অর্ধ শতাংশই কর্পোরেট কর। এই খাতে অতিরিক্ত করফাঁকি হচ্ছে এমন অভিযোগ বহুদিন ধরে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এবার কর্পোরেট করও অনলাইনে দেয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে এই খাতে কর আদায় বাড়াবে। স্বচ্ছতা আসবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে এনবিআর কাজ করছে।
মোট কর ফাঁকির অর্ধেকই কর্পোরেট ট্যাক্স
কর্পোরেট খাতে কর ফাঁকির প্রবণতা বেশি। মোট কর ফাঁকির অর্ধেকই কর্পোরেট ট্যাক্স। অনলাইনে কর্পোরেট ট্যাক্স দেয়া বাধ্যতামূলক করা হলে কর ফাঁকির অনেকটাই কমে যাবে। প্রতিষ্ঠানগুলো করজালের মধ্যে চলে আসবে।
কর্পোরেট ট্যাক্স ফাঁকি মোট ট্যাক্স ফাঁকির ৫০ ভাগ। ২০২৩ সালে মোট ট্যাক্স ফাঁকির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ছিল করপোরেট ট্যাক্স। দুই লাখ ৮৮ হাজার কোম্পানির মধ্যে ৯ শতাংশ রিটার্ন দেয়।সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, আটোমেশনে জোর দেয়ার কারণ কর ফাঁকি কমনো, রাজস্ব আহরণ দ্রুত ও সহজকরণ। এতে কর্মকর্তা ও করদাতার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক হওয়া সম্ভাবনা থাকে না। এতে হয়রানিও কমবে।
উৎসাহিত করতে পুরস্কার প্রদান
অনলাইনে সর্বচ্চো ই-রিটার্ন প্রদানকারীদের পুরস্কার প্রদান করেছে এনবিআর। অনলাইনে ই-রিটার্ন জমাকারীদের উৎসাহিত করার জন্য গতকাল পাঁচ জনকে পুরস্কার প্রদান করে। এতে অনলাইনে কর দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে করদাতারা।
টাইমলাইন ডিসেম্বর
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের টাইমলাইন দিয়েছে। আমরা আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে না হলেও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। আমরা দুইটি টিম তৈরি করেছি -বিজনেস টিম ও টেকনিক্যাল টিম।
এর আগে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে চার ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়। বাধ্যবাধকতা করলেও সিস্টেমটি নতুন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ই-রিটার্ন সিস্টেমকে আরো উন্নত করার জন্য এনবিআর কাজ করছে।
পলিসি থিংক এন্ড ইকোনোমিক সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, ম্যানেজমেন্ট এখন কর্পোরেট ট্যাক্সকে অটোমেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। এর কারণ হচ্ছে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে আর ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’না থাকে। কর্পোরেট ট্যাক্স যখন অনলাইন সিস্টেমে যাবে, তখন দেখা যাবে— এ বছর যে আয় হয়েছে, আগামী বছর তা অন্তত ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। এনবিআরের এখন যা করতে হবে, তা হলো সেন্ট্রাল ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মনিটরিং করা। কর্পোরেট খাতের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সরাসরি নজরদারিতে আনতে হবে। কর্পোরেট ট্যাক্স থেকে আসল রাজস্বের চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম জমা হয়। এর পেছনে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ থাকতে পারে। তবে এবার থেকে কর্পোরেট ট্যাক্স প্রদানে স্বচ্ছতা আসবে। এতে রাজস্ব আয়ও বেড়ে যাবে। তাদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














