কুড়িগ্রামে তীব্র নদীভাঙনে বিলীন শতাধিক ঘরবাড়ি
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৫-০৯-২২ ১০:২১:৫৮
কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার ৩৩টি পয়েন্টে প্রায় ৪,৩১৫ মিটার জুড়ে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’মাসে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, রৌমারী, উলিপুর ও রাজারহাটে শতাধিক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
উপায়ন্তর না পেয়ে ভাঙনকবলিত মানুষজন অন্যের জমি, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ অস্থায়ী ব্যবস্থা নিলেও স্থায়ী সমাধান না করায় প্রতিবছর ভাঙন তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম এলাকার কৃষক নুরনবী বলেন, গত এক মাসে এ গ্রামে অন্তত ১৫টি ঘরবাড়ি আর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আগুনে পুড়লে বসতভিটা থাকে, নদী ভাঙলে কিছুই থাকে না। আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত।
ওই এলাকার সালেকা (৫৫) জানান, চোখের সামনে বাবা-মায়ের কবর ধরলা নদীতে বিলীন হয়ে গেল। যে হারে ভাঙছে, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ গ্রাম আর থাকবে না।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, বানিয়াপাড়া ও সবুজপাড়ার শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। প্রতিদিন আশ্রয়ের খোঁজে ভাঙনকবলিত মানুষ আমার বাড়িতে আসছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ভাঙনকবলিত এলাকা হলো- রৌমারী উপজেলার হবিগঞ্জ বাজার, সোনাপুর, ঘুঘু মারি, সুখেরবাতি, ফুলুয়ারচর, দক্ষিণ ও উত্তর নামাজের চর, গেন্দার আলগা, রাজিবপুর উপজেলার চর নেওয়াজী, কোদালকাটি, জিঞ্জিরাম, সদর উপজেলার চর ইয়ুথনেট, উলিপুর উপজেলার নুরুন্নাহার স্কুল সংলগ্ন এলাকা, রসুলপুর, মোল্লারহাট, কিসমত ফুলবাড়ি, দাড়িয়ারপাড়, রাজারহাট উপজেলার রামহরি, নাগেশ্বরী উপজেলার মাদারগঞ্জ, কালিগঞ্জ, দইখাওয়ার চর, সারডোব, চর গোরকমন্ডপ, দাড়ি কিশোরপুর, দামালগ্রাম, অজিতপুর, চর পশ্চিম ধনিরামপুর, বাঙটুর ঘাট, খাড়ুয়ার পাড়, চর যাত্রাপুর বানিয়াপাড়া, চর লুচনি, চর বলরামপুর, এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ধাউড়িয়ার কুটি এলাকা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলছে। আপদকালীন সময়ে ভাঙনকবলিত স্থানে ২৫০ কেজি ওজনের বালুভর্তি জিও-ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
প্রতিবছর নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের দাবি কেবল জরুরি নয়, স্থায়ী সমাধান জরুরি। নইলে নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকবে আরও গ্রাম।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













