আমাদের অবশ্যই শেয়ারবাজারে গুরুত্ব দিতে হবে: অর্থ উপদেষ্টা
আপডেট: ২০২৫-০৯-২২ ১৬:৩৩:০১
বড় প্রকল্প বা নতুন অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা বাংলাদেশে বহুবার ঘটেছে। তাই আমাদের অবশ্যই শেয়ারবাজারের গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসাথে বড় প্রকল্প বা নতুন অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগি করা প্রয়োজন। ঝুঁকি ভাগাভাগির মানে হলো, বন্ড কিনতে হবে, ডিবেঞ্চার কিনতে হবে বা ইকুইটিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসই আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে অতি নির্ভরতার চিত্র তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি খাত হোক বা সরকারি খাত, ব্যাংকের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে এবং শেষ পর্যন্ত তা খেলাপি করে এবং তা পরিশোধ না করে পার পেয়ে যায়। এটাই বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি।
তিনি বলেন, আমাদের একটি দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো, অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ভাবেন যে শেয়ারবাজার থেকে চিরস্থায়ী আয় হবে। এর ফলে বাজারে পতন হলে তারা দায় চাপায় আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকদের ওপরে। অথচ শেয়ারবাজার কোনো স্থায়ী লাভের জায়গা নয়—এখানে ক্ষতিও হতে পারে। কোম্পানি ভালো না করলে বিনিয়োগকারীকেও ক্ষতি ভাগাভাগি করতে হয়। তাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এসব বিষয়ে শিক্ষিত ও সচেতন করার, যেন তারা বুঝতে পারে যে শেয়ার বা বন্ড কিনলে সেটি কোনো স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা নয়।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখনো উন্নত হয়নি উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারবাজারে সরকারি বন্ডের একটি অংশ আছে, কিন্তু বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম। এখানে ইকুইটি মার্কেট কার্যত নগণ্য। পৃথিবীর কোথাও—হোক তা সরকারি খাত বা বেসরকারি খাত—শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরে তা খেলাপি করে দায় এড়িয়ে যাওয়া বৈধ নয়। অথচ বাংলাদেশে এটা এক করুণ বাস্তবতা।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সুকুক বন্ডের ক্ষেত্রে আমাদের সামনে এমন উদাহরণ আছে যে, যেখানে বিনিয়োগের অর্থ কোথায় গেছে, তা চিহ্নিত করাই কঠিন হয়ে গেছে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে হবে। কোন প্রকল্পে সুকুক ইস্যু করা হচ্ছে, তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। প্রকল্প অবশ্যই বাস্তব সম্পদভিত্তিক হতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সুকুকের বড় অংশ বিনিয়োগ হয়েছে স্যানিটেশন বা প্রাথমিক শিক্ষার মতো খাতে, যেখান থেকে রিটার্ন কম পাওয়া যায়। শুরুর দিকে তহবিলের অভাবে বাধ্য হয়েই এভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সুকুক বন্ড হওয়া উচিত বেসরকারি খাতের জন্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করে আয় করবে, আর তাতে ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। এটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, তবে প্রচেষ্টা চলছে।
পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলের মতো বিভিন্ন অবকাঠামোকে সিকিউরিটাইজেশন করার পরামর্শ দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোও সিকিউরিটাইজ করা যেত, যেমন যমুনা সেতু। তাতে, টোল আদায়ের মতো স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এতে আসত। কিন্তু সরকার সে পথে যায়নি। এখন আমাদের গুরুত্ব সহকারে এটি ভাবতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা সাহেলউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে অর্থায়নের অভাব প্রকট। এর মধ্যেই অনেকে শুধু চাহিদা জানিয়ে বলছেন, ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ দেন, প্রণোদনা দেন, কর কমিয়ে দেন। এভাবে কর কমিয়ে দিতে থাকলে আমার তো মনে হয় কিছুদিন পর আমরা বেতন-ভাতাও পাব না। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয় হচ্ছে, আমরা শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতে ঠিকভাবে অর্থায়ন করতে পারছি না। ভুখা পেটে শিক্ষকেরা আর কতদিন পড়াবেন।
এসকেএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













