নির্বাচনে নাশকতার চেষ্টা ঠেকাতে তৎপর র্যাব: ডিজি
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৯-৩০ ১৭:২২:০৭
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুল রহমান বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করতে সরকারবিরোধীরা ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় র্যাব ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রচেষ্টা নিয়ে র্যাব ডিজি একেএম শহিদুর রহমান জানান, পুলিশের লুট হওয়া প্রায় এক হাজার ৩৫৭টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে ইতোমধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। গত মাসেও তিনটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, বাকি অস্ত্রগুলোও উদ্ধার করতে সক্ষম হবো।’
এসব অস্ত্র বাইরে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র বিভিন্ন শ্রেণির অপরাধীর কাছে থাকতে পারে। এসব অস্ত্র যতদিন বাইরে থাকবে, ততদিন বিষয়টি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমরা আশাকরি জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।’
পাহাড়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। যদিও দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তারপরও পরিস্থিতিকে বড় আকার দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পেছনে ইন্ধন আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। বিদেশি কোনও অপশক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
র্যাব ডিজি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে র্যাবের বিশেষ প্রস্তুতি চলছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার অব্যাহত আছে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে র্যাব সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’
নির্বাচনকালীন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে র্যাব ডিজি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছি। গাজীপুরে র্যাব সদস্যদের আটকে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে না। আমরা আশাবাদী, যেকোনও পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবো।’
তিনি বলেন, ‘এই মাসে আমরা ৭৬টি অস্ত্র উদ্ধার করেছি এবং ২৮ জন অস্ত্র মামলার আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এবং চলতি বছর অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা বিগত এক বছরে র্যাব ৩২১টি অস্ত্র উদ্ধার করি এবং এই সংক্রান্তে ২০৪ জন আসামি গ্রেফতার হয়। হত্যা মামলার প্রায় এক হাজার ৮৭২ জন আসামি আমরা গ্রেফতার করি। ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের ৬ হাজার ৬৬৭ জন, ডাকাত চক্রের সদস্য ৪৪৩ জন, মানব পাচারকারী ৭৩ জন এবং অন্যান্যসহ মোট ৯ হাজার ৫৫৯ জন আসামিকে আমরা গ্রেফতার করি।’
একেএম শহিদুর রহমান আরও বলেন, ‘এছাড়াও বিভিন্ন মাদকসহ আমরা প্রায় ৩ হাজার ৪১৮ জনকে এই এক বছরে গ্রেফতার করেছি। ফেন্সিডিল উদ্ধার হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৫৫ বোতল, গাজা প্রায় ১৪ টনের মতো, ইয়াবা উদ্ধার করেছি ৬২ লাখ ৭০ হাজারের পিসের মতো। আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং আশা করি এই অভিযানের ধারা অব্যাহত থাকবে।’
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














