কমিশন আইন ও অধ্যাদেশকে একীভূত করা উচিত: অ্যাটর্নি জেনারেল
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-১০-০৭ ১৮:১৯:১৪
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ ও ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’- এই দুটি আইনকে একত্রিত করে একটি আইন করা উচিত। একইসাথে সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন রুলসকে সহজবোধ্য করে একটি জায়গাতে আনা উচিত। এর মাধ্যমে সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা হ্রাস পাবে।”
সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আয়োজনে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, “দেশে আর্থিক জালিয়াতিকে প্রতিরোধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। জালিয়াতি ও লুটের কয়েকগুণ জরিমানা করতে হবে। একইসাথে জালিয়াতি ও লুটের অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা তথা: দুদক, বিএফআইইউ ইত্যাদির সাথে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনের (আইওএসকো) এর সদস্য দেশ হিসেবে বিএসইসি ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ পালন করে আসছে।
বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে বিকাল ৩:৩০ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান। এতে বিএসইসির কর্মকর্তাবৃন্দ, পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানসমূহের শীর্ষ কর্তাবৃন্দসহ আরো অনেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিশেষত পুঁজিবাজারের প্রথম সারির কর্মীবাহিনী তথা বিএসইসি কর্মকর্তাবৃন্দসহ ডিএসই, সিএসই, ডিবিএ, শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজসমূহের জন্য আয়োজন করা হয়েছে, যেন তাদের মাধ্যমে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫’ এর মূল বার্তাসমূহ বৃহৎ পরিসরে পুঁজিবাজারের সকল অংশীজনদের কাছে পৌছে যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ ও ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’- এই দুটি আইনকে একত্রিত করতে কমিশন ইতোমধ্যে কাজ করছে এবং সমস্ত সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত রুলসকে এক জায়গায় আনতেও কাজ চলছে। অনিয়ম ও জালিয়াতি রুখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেই বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ে বিগত সময়ের অনিয়ম ও জালিয়াতি তদন্তে ‘অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি’ গঠন করেছিল। কমিটির পেশকৃত ১২টি প্রতিবেদনের মধ্যে কমিশন ইতোমধ্যে ৭ টি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
তিনি বলেন, আদালতে রিট চলমান থাকায় ও স্থগিতাদেশ থাকায় কিছু ক্ষেত্রে (যেমন: বেস্ট হোল্ডিংস এবং কোয়েস্ট বিডিসি) প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন তথা এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন সম্পন্ন করা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার ও বিজ্ঞ আদালতসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি ও সহায়তা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের কাঠামোগত ও টেকসই সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিতে বিএসইসি কাজ করছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রাস্টি, কাস্টোডিয়ান ও সম্পদ ব্যবস্থাপক এর ভূমিকা ও দায়িত্বকে আরো সুসংহত করা হচ্ছে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের জন্য কমিশন কাজ করছে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ রূখতে বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের সকল ব্রোকারদের অসংশোধনযোগ্য সমন্বিত ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের আওতায় এনেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার মোঃ আলী আকবর বলেন, “প্রতি বছরের মত আয়োজিত এই ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ এর এবারের প্রধান প্রতিপাদ্য হলো ‘টেকনোলজি এন্ড ডিজিটাল ফাইন্যান্স, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ফ্রড এন্ড স্কাম প্রিভেনশন’ যার মধ্যে থেকে বিএসইসি ‘ফ্রড এন্ড স্কাম প্রিভেনশন’ থিমকে বেছে নিয়েছে। আইওএসসিও-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশ্বব্যাপী উদ্যোগটি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আমরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাকে আমাদের লক্ষ্যের ভিত্তি হিসেবে দেখি। জালিয়াতি প্রতিরোধ কেবল একটি নিয়ন্ত্রক মূলক কাজ নয় – এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা। বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু কেবল শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। আমাদের জবাবদিহিতার সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে। জালিয়াতি প্রতিরোধ একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি একটি যৌথ কর্তব্য।”
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার এবং আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ইয়াওয়ার সাইদ। প্রেজেন্টেশনটিতে প্রতারণা ও জালিয়াতির প্রধান ধরণ বা প্রকারসমূহ, জালিয়াতি সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের বিএসইসির ভিত্তিসমূহ, রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, কঠোর বাজার নজরদারি ও সনাক্তকরণ, এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন, উত্তরণ বা উন্নতির জন্য সুপারিশ এবং বিনিয়োগকারীর অন্তর্দৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রেজেন্টেশনে প্রতারণা ও জালিয়াতিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক রিপন কুমার দেবনাথ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













