কেউ চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে চায় না, সবাই এমপি হতে চায়: শামা ওবায়েদ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-১০-০৯ ১৬:১৫:৩৩


বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান হতে চায় না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হতে চায় না, কেউ মেম্বার হতে চায় না। সবাই এমপি হতে চায়।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ কি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবে?’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনি এমপিদের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে নেন, কেউ আর এমপি হতে চাইবে না। আপনি এখন রাস্তা দিয়ে যান, শুধু দেখবেন আমি এমপি হতে চাই, পাঁচ-ছয়টা ছবি পোস্টারে। সবাই শুধু এমপি হতে চায়। তো এখন এমপিদের ক্ষমতার কতটুকু থাকবে সেটাও কিন্তু আমাদের ভেবে দেখার দরকার।

সংসদ সদস্যদের ক্ষমতার ব্যাপারে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে গেছে, তারা মনে করেছে তাদের রাইট- তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। পার্লামেন্টে এমপিদের কেন গাড়ি আনতে হবে, তারা কেন গাড়ি বিদেশ থেকে পাবে, তাদের কথায় কেন তাদের লোকাল প্রশাসনের কর্মকর্তারা চলবে?

উচ্চকক্ষ নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা বলেছি, আমাদের উচ্চকক্ষে এডুকেশনিস্ট, সোশ্যাল জার্নালিস্ট, সিভিল সোসাইটি পিপল এরা থাকতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটিও বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। সিভিল সোসাইটিকে পিআর পদ্ধতিতে যদি আপনি উচ্চকক্ষে আনেন তখন কিন্তু সিভিল সোসাইটি তার যে মতাদর্শ সেই মতাদর্শ স্ট্যাবলিশড করতে চাইবে। এমন সিভিল সোসাইটি আমাদের উচ্চকক্ষে প্রয়োজন যে, যারা দেশের স্বার্থে তাদের আলোচনাটা আনবে এবং দেশে যাদের দায়বদ্ধতা থাকে ট্রান্সপারেন্সি থাকে। আমি মনে করি, শুধু উচ্চকক্ষে আমাদের ইয়োথ ভয়েস আসা উচিত। সেটা অবশ্যই যেভাবে ঐক্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছে সেরকম আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, যখন স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেই সময়ই কিন্তু আমরা এই ২৭ দফা দিয়েছিলাম। তার ৬ নম্বর পয়েন্টে কিন্তু আমরা বলেছিলাম যে, আমরা আপার চেম্বার চাই। এটার একটা কারণ হচ্ছে, আমাদের পার্লামেন্টটা যেন আরও বেশি দায়বদ্ধতার মধ্যে আসে। একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে এবং পার্লামেন্টে ডিসিশন মেকিং প্রসেসে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট যেন আরও ইনক্লুসিভ একটা ভূমিকা রাখতে পারে। আর আমাদের পপুলেশনের একটা রিপ্রেজেন্টেশন যেন পার্লামেন্টে থাকে। এই দুইটা ব্যাপার চিন্তা করে কিন্তু বিএনপি এই সাজেশন রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য তার নিজের দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে, পার্লামেন্টে এই প্রভিশনটাও কিন্তু ৩১ দফায় রেখেছি। গত ১৭ বছরে আমাদের যেহেতু গণতন্ত্র ছিল না, আমাদের একটা কার্যকর সংসদ ছিল না, সেই কারণে আমাদের ডেমোক্রেসি হোঁচট খেয়েছে। ডেমোক্রেসি বারবার আপস অ্যান্ড ডাউনস এর মধ্যে দিয়ে গেছে।

সিপিডির ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহানের সভাপতিত্বে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, কমিউনিস্ট পার্টির রুহিন হোসেন প্রিন্স, নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম প্রমুখ।

বিএইচ