বিটিআরসির সাথে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা

এনইআইআর ব্যবস্থাকে স্বাগত, শুল্ক বৈষম্য কমানোর আহ্বান

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-১০-৩০ ১৯:৪৪:৩০


দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মোবাইল বিক্রেতা ও মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ। একইসঙ্গে শুল্ক ও আমদানিতে কোনো প্রকার বৈষম্য সৃষ্টি না করার দাবিও জানান তাঁরা।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এই সিস্টেম চালু হলে অবৈধ বা নকল হ্যান্ডসেট আমদানি রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কিন্তু কিছু বেনিয়া ও মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হকের সাথে দেখা করেন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি মো. আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াসসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা বিটিআরসির কাছে এনইআইআর সিস্টেম চালুর বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির নেতারা বলেন, এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে বৈধ আমদানিকারকদের জন্য স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে বাজার আরও সুশৃঙ্খল হবে। কিন্তু বাস্তবে এই উদ্যোগে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি, অথচ দেশের মোবাইল বেচাকানার ৬০ শতাংশই তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তারা অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সরকারের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে এনইআইআর প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটাচ্ছে-যার উদ্দেশ্য জনগণকে বেশি দামে হ্যান্ডসেট কিনতে বাধ্য করা এবং বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা কায়েম করা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা সরকারকে কর দিতে চান এবং বৈধভাবে হ্যান্ডসেট আমদানি করতে চান, কিন্তু বর্তমান নীতিমালা ও এলসি প্রক্রিয়া কেবল কিছু সিন্ডিকেটের দখলে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বিদেশ ফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে ফোন সংগ্রহ করে বিক্রি করেন, যা ভোক্তাদের কম দামে মানসম্মত পণ্য পেতে সাহায্য করে।

তাদের দাবি, এই ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ অনানুষ্ঠানিকভাবে খরচ হয়। সরকার যদি সবার জন্য আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করে, তাহলে বছরে অন্তত ৫০০ থেকে ২০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব।

মোবাইল ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে জড়িত, যাদের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। এনইআইআর বাস্তবায়নের নামে যদি তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর রুজি-রুটি হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া এক্সেসরিজ ব্যবসাসহ প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকারের একাংশ ও কিছু আমলাকে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনের আগে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

তারা বলেন, দেশের ৯৫ শতাংশ সাধারণ ব্যবসায়ী কর দিতে ইচ্ছুক, কিন্তু বাকি ৫ শতাংশ মুনাফালোভী সিন্ডিকেট সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এই চক্র ৫০০ ডলারের পণ্য ৮০ ডলার দেখিয়ে আমদানি করে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত করছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আইন ও সিস্টেম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়, বরং তা হওয়া উচিত সাধারণ জনগণের জন্য। বক্তারা আহ্বান জানান, সরকার যেন অবিলম্বে এনইআইআর বাস্তবায়নে স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করে, বৈধ ব্যবসায়ীদের যুক্ত করে এবং সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ন্যায্য বাজার প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে।

শেষে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস বলেন, যদি এই সিদ্ধান্ত সত্যিই জনগণের উপকারে আসে তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের স্বার্থে যদি এটি নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। আমরাও ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে কর পরিশোধ করে বৈধভাবে আমদানি করতে চাই-সেই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।

এর আগে গত বুধবার বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে অবৈধ ও ক্লোন আইএমইআই ব্যবহার করা মুঠোফোন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবে না।

বিটিআরসি জানায়, এই উদ্যোগে শুধু অনুমোদিত ও বৈধভাবে আমদানিকৃত ফোনই ব্যবহারযোগ্য হবে।

বিএইচ