বেসিক ব্যাংককে আর এভাবে রাখা যায় না: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২২ ১৭:৫৯:৫০
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংককে আর এভাবে রাখা যায় না। এটাকে অন্যান্য নরমাল ব্যাংকের বাইরে নিয়ে ভাবতে হবে।আলাদাভাবে বসে এটাকে আলাদাভাবে পরিচর্যা করতে হবে।
আজ রোববার মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এম মান্নান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি সরকারি ব্যাংক দূর্বল ব্যাংক। প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ঘাটতি রয়েছে। হয় মূলধন ঘাটতি, না হয় প্রভিশনিং ঘাটতি। এসব বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা করেছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংক অনেক দুরবস্থার মধ্যে আছে। নতুন ব্যবস্থাপনা হ্ওয়ার পর কতগুলো বিষয়ে বেশ ভালো কাজ করেছে। কারা টাকা-পয়সা নিয়েছে, এটা আবিষ্কার হয়েছে; কি ধরণের দেনা-পাওনা আছে তারও হিসাব-নিকাশ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখলাম, বেসিক ব্যাংকের প্রবলেম এমন, এটাকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে সমমানে বিচার করা যাবে না। এটাকে বেশি নার্সিং করতে হবে। সেজন্য ভবিষ্যতে যখন ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে আলাপ আলোচনা করবো, সেখানে বেসিক ব্যাংককে বাইরে রাখা হবে। বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা ভাবে বসে ভালোভাবে নার্সিং করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক এখন এটা বিশেষ প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। বেসিক থাকার পরে আর অন্য কিছু ডিসকাশ করা যায় না। অন্য কোনোভাবে এটাকে ফেরানো যায় কি না- আলোচনা করতে হবে। অন্য সকলকে না নিয়ে বেসিককে নিয়ে বসতে হবে।
ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যদের দূর্নীতির বিচার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অপেক্ষা করেন-দেখেন। বেসিকদের বিরুদ্ধে যে রিপোর্ট হয়েছে, সেটা দেখে দুদক ব্যবস্থা নেবে।
বাকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনা চলবে। শিগগির আবার বসবো। বিষয়টা আগামী মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির মুখে পড়েছে । এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ২০০ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫৩ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ২৮৬ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ৭৩৭ কোটি টাকা, কৃষি ব্যাংকের ৭ হাজার ৪৮৫ কোটি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৭০৫ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














