বাউফলে বিএনপি-জামায়াতের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪০

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০২-০৮ ২২:১৬:৫১


পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম দফার সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বাউফল পৌর শহরে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা আজ সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ফিরছিলেন। বেলা একটার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হাওলাদার ও শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তাঁদের মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কমপক্ষে ৪০ ব্যক্তি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে ধাওয়া দিলে সেখানে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পৌর শহরে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার পর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা থানা ঘেরাও করে বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ, পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, নির্বাচন পর্যন্ত ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। এ ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসহাক অভিযোগ করে বলেন, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় বুঝতে পেরে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে। এটি একটি ষড়যন্ত্র বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজকের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এএ