তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস

পুনর্বিন্যাসের দাবি অংশীজনদের, দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই ডিএসইর

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০২-১৬ ২১:১৫:২৮


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো খাত অনুযায়ী তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে। তবে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বর্তমান খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনেক পুরনো। যেটি আর বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই দীর্ঘদিন থেকে এই শ্রেণিবিন্যাসকে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়ে আসছেন বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তবে এ বিষয়ে জোরালো দাবি থাকলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই স্টক এক্সচেঞ্জ কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

ডিএসই’র তথ্য তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড, ডিবেঞ্চার ও বিভিন্ন খাতের কোম্পানি মিলে মোট ৬৫১ টি পণ্য ও কোম্পানি তালিকাভুক্ত। এসব পণ্য ও কোম্পানি ২২ টি ভিন্ন ভিন্ন খাতে তালিকাভুক্ত।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহু বছর ধরে এই খাত ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস চলে আসছে। বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের সাথে এটি আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইসঙ্গে কোম্পানিগুলো সঠিক খাতে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বিভ্রান্তি তৈরি করে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে মিসলিডিং, মানে টোটাল ক্যালকুলেশনটা তো ভুলভাবে করা হচ্ছে। আমি যদি একটা সিমেন্ট সেক্টরকে স্টিল সেক্টরে দেই বা স্টিল কোম্পানিকে যদি ফুড সেক্টরে দেই তাহলে পুরো খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ তো ভুল হচ্ছে। এতে খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী (সিইও) কাজী মনিরুল ইসলাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে জানান, স্টক এক্সচেঞ্জে যে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হয় সেগুলোকে সেক্টর হিসেবে শ্রেণীকরণ করতে হয়। বৈশ্বিক একটা শ্রেণীকরণ স্ট্যান্ডার্ড আছে। সেটা অনুযায়ী বাংলাদেশের স্টক মার্কেট ক্লাসিফিকেশন করতে পারি।

বিষয়টি ব্যাখ্য দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি আছে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে কনজ্যুমার কোম্পানিগুলোকেও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি হিসেবে ধরা হচ্ছে। যেমন কহিনুর, ম্যারিকো, রেকিট বেনকিজার। এগুলো হওয়া উচিৎ হয় কনজ্যুমার কোম্পানি অথবা হাউজহোল্ড অ্যান্ড পার্সোনাল ব্রান্ড। এসব কোম্পানি আশে পাশের দেশগুলোতে হয় কনজ্যুমার কোম্পানি অথবা হাউজহোল্ড অ্যান্ড পার্সোনাল ব্রান্ড হিসেবে তালিকাভুক্ত।

বিষয়টি ছোট কিন্তু এর প্রভাব অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি জানান, এই জিনিসটা তাড়াতাড়ি করা দরকার। এটা আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। কেননা আমাদের সেক্টরাল লিমিট থাকে। আমাদের ভালো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো কনজ্যুমার কোম্পানির মধ্যে বিলং করে। এখানে যদি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া থাকে তাহলে আমরা ইচ্ছে করেই ভালো শেয়ারগুলোতে ভালো পজিশন নিতে পারি না।

খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনও। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে চিঠি দিয়ে এটি পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ ও আয় বৃদ্ধির ধারা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি পুরনো বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করে।

ডিবিএ আরও জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুঁজিবাজার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ বিষয়ে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ডিএসই এবং বিএসইসিকে চিঠি দিয়েছি। এ ব্যাপারটা নিয়ে আমরা অনেকদিন ধরে কথা বলছি। এবার অফিসিয়াল চিঠিতে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি যে কি করা উচিত। তাদের উচিত ছিল যেদিন চিঠি দেওয়া হয়েছে এরপর দিন কাজটা করা। তবে এখন পর্যন্ত সেটা করা হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাণিজ্য প্রতিদিনকে জানান, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ব্যক্তব্য জানতে চাইলে সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীন। কিছু রুলস রেগুলেশন রয়েছে সেটা অনুযায়ী তারা শ্রেণীকরণ করে। এক্ষেত্রে কোন রুলস রেগুলেশনে কোন সমস্যা বা সংশোধনী প্রস্তাব থাকলে তা স্টক এক্সচেঞ্জ তৈরি করবে। আর সেখানে রেগুলেশনের এমেন্ডমেন্টের জন্য যদি কোন এপ্রুভাল প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা বিএসইসির কাছে নিয়ে আসলে বিএসইসি তাতে অনুমোদন দেবে।

বিএইচ