১৩২ কোটি শেয়ার ইস্যুতে বিএসইসির অনুমোদন পেল পাওয়ার গ্রিড
আপডেট: ২০২৬-০২-১৮ ১৯:৫৫:৫১
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডকে (পিজিসিবি) অগ্রাধিকারমূলক (প্রেফারেন্স) শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটি ১৩২ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৪টি অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যুর সম্মতি পেয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এ শেয়ার বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের অনুকূলে ইস্যু করা হবে। গতকাল এ বিষয়ে অনুমোদনের কথা জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, সরকারের কাছ থেকে ইকুইটি হিসেবে ১ হাজার ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪০ টাকা নিয়ে ব্যবসা করেছে পাওয়ার গ্রিড। ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত এসব অর্থ ‘ডিপোজিট ফর শেয়ার’ হিসেবে জমা ছিল।
পাওয়ার গ্রিডের কোম্পানি সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আজাদ সানবিডিকে জানান, পাওয়ার গ্রিডের বড় বড় প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পে সরকার অর্থায়ন করে থাকে। অর্থায়নের ৬০ শতাংশ ইকুইটি হিসেবে দেয় আর ৪০ শতাংশ ঋণ দেয়। ৬০ শতাংশ ইকুইটির যে অর্থটা আসে এটার বিপরীতে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করতে হয়। সেই হিসেবে প্রতি অর্থবছর শেষে অডিটেড একাউন্টসের যে ফিগারটা থাকে সেটা বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুমোদন এবং সিকিউটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের সম্মতি নিয়ে শেয়ার ইস্যু করা হয়। সেটারই সম্মতি দিয়েছে বিএসইসি। এখন সেই অনুযায়ী এসব শেয়ার ইস্যু করা হবে।
অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার যে অর্থ দেয় তার বিপরীতে প্রতি অর্থবছর শেষে শেয়ার ইস্যু করে পাওয়ার গ্রিড।
এর আগেও ২০২২-২৩ অর্থ বছর পর্যন্ত ‘ডিপোজিট ফর শেয়ার’ হিসাবে জমাকৃত মোট ২ হাজার ৫০৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ টাকার বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৫০ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৯৭৬টি অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যুর জন্য বিএসইসির সম্মতি পায় পাওয়ার গ্রিড।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ১ম প্রান্তিকে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫৫ পয়সা। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। যা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৪ টাকা ৩৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪৮ টাকা ৩৬ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৬৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সায়।
এর আগে ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ৬১ পয়সায়।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিডের অনুমোদিত মূলধন ১৫ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯৯১। এর ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২২, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৫৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













