কাট্টালি টেক্সটাইলের নিরীক্ষায় ৫৩ কোটি টাকার অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০৩-০৫ ১৭:৩১:৫৫
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি কাট্টালি টেক্সটাইলসের ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীর উপরে প্রতিবেদন দিয়েছে নিরীক্ষক। এতে অবন্টিত মুনাফা রেখে বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘন ও আর্থিক প্রদিবেদনে দেখানো অগ্রিম এবং ট্রেড রিসিভেবল নিয়ে অনিশ্চয়তা উঠে এসেছে। এছাড়াও ১০ কোটি টাকার চলতি মূলধন প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি নিরীক্ষক।
বিশ্লেষকদের মতে, অগ্রিম, প্রাপ্য এবং মূলধনী কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যালেন্স যাচাইযোগ্য না হওয়া কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নগদ লভ্যাংশ বিতরণে বিলম্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
অগ্রিম, আমানত ও প্রি-পেমেন্টে ১৭ কোটি টাকার বেশি
কাট্টালি টেক্সটাইলসের আর্থিক প্রতিবেদনে “অ্যাডভান্স, ডিপোজিট অ্যান্ড পেমেন্ট” খাতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে ১৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার অগ্রিম জমা দেখিয়েছে। আগের বছরে এ পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তবে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এ ব্যালেন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
৩৬ কোটির বেশি ট্রেড রিসিভেবলও অনিশ্চিত
কোম্পানির ট্রেড রিসিভেবল বা ক্রেতাদের কাছে পাওনা টাকা ছিল ৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। সরবরাহকৃত নথি ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণাদি পর্যালোচনার পরও নিরীক্ষক এই অর্থের অস্তিত্ব বা সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবন্টিত ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ
কাট্টালি টেক্সটাইল অবন্টিত নগদ লভ্যাংশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে যে ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়নি। নিরীক্ষকের মতে, এটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনার লঙ্ঘন।
১০ কোটি টাকার চলতি মূলধন প্রকল্প
কোম্পানি ১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা চলতি মূলধন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়েছে, যা কয়েক বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নিরীক্ষক এই মূলধনী প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখিয়েছে ৮ পয়সা। পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১৫ টাকা ১০ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ২ পয়সা। অন্যদিকে আগের বছর ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৮৪ পয়সা, শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ছিল ১৫ টাকা ২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ১ টাকা ২২ পয়সা।
২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানি ২০২১ সালে ১০ শতাংশ ও ২০২৪ সালে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা না করায় জানুয়ারীতে এর ক্যাটাগরি বি থেকে জেডে অবনমিত করা হয়।
বর্তমানে কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অধীনে ১৮ শতাংশ ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশ শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়াও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
এসব বিষয়ে কাট্টালি টেক্সটাইলসের সিএফও মিজানুর রহমান বলেন, এই প্রকল্প গুলো কমপ্লিট হয়ে গেছে বহুত আগে। এগুলো হচ্ছে ডরমিটরি আছে কিছু, ওই ডরমিটরিগুলো কমপ্লিট হয়ে গেছে। ক্যাপিটাল ওয়ার্কিং প্রোগ্রেসে আর নাই, এগুলো ফিক্সড অ্যাসেটে ট্রান্সফার হয়ে যাবে।
অবন্টিত লভ্যাংশের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে যে ওরা (বিনিয়োগকারীরা) যদি কালেক্ট না করে পরপর তিন বছর, তখন ট্রান্সফার করতে হবে। এখন তো ওরা একটু একটু করে কালেক্ট করছে। একেবারে কালেক্ট না করলে তখন ট্রান্সফার করতে হবে।
৩৬ কোটি টাকার ট্রেড রিসিভেবল এবং অগ্রিম হিসেবে জমা ১৭ কোটি টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো নিরীক্ষক নিশ্চিত করতে পারেনি কারণ কিছু বিষয় আছে। অনেক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি আমাদেরকে অনেক সময় সাব কন্ট্রাক্ট দেয়। আমাদের অনেকগুলো ক্লায়েন্ট যাদের থেকে টাকা পাওয়া যাবে সেসব ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন একটা অডিটর একটা বন্ধ ফ্যাক্টরিতে চিঠি পাঠালে সে তো ওই বিষয়ে কনফার্মেশন করবে না। যাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল তারা বেশিরভাগই রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সাথে সংশ্লিষ্ট। এখন যেহেতু বিএনপি সরকার গঠন করেছে আশা করছি কিছু টাকা রিকভার করতে পারব।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













