ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারটেরোরিজম প্রধানের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০৩-১৭ ২১:০৬:৪৩


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিয়ত দেশটির ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ যুদ্ধ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও অস্বস্তির মধ্যেই তার প্রশাসনে ফাটলের আভাস মিলছে। চলমান সামরিক আগ্রাসনের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ করেছেন ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের প্রধানে জোসেফ কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ। জোসেফ কেন্ট প্রথম কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যিনি সরাসরি ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

পদত্যাগপত্রে কেন্ট বলেন, ‘আমি বিবেকের তাড়নায় এই ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না।

পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপের কারণে আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।’
নিজের এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও প্রকাশ করেছে কেন্ট। তার পদত্যাগের এ খবরে বিস্মিত হয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি তাদের অনেকটাই অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু করতে হলে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ইরানকে নিয়ে তেমন কিছুই ছিল না।

কেন্টের পদত্যাগের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। একইভাবে, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ও (অফিস অব দ্যা ডিরেক্টরঅব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স) এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

জোসেফ কেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডের।

তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি তুলনামূলকভাবে নীরব। এখন পর্যন্ত গ্যাবার্ড প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। কেবল চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতা ডিগনিফায়েড ট্রান্সফারে তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।

বিএইচ