১০ কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়ার শঙ্কা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৩-২৩ ০৮:৫৬:২৮


হরমুজ প্রণালি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নৌপথ দিয়েই পৃথিবীর ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি এ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের অন্যান্য অংশে যায়। শুধু কি জ্বালানির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি, এমন প্রশ্ন করলে উত্তর হবে, ‘না’। কারণ, এ নৌপথটি ১০ কোটি মানুষর খাবারের লাইফলাইন। খবর সিএনএন।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অনেকটা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বন্ধ রয়েছে তেলবাহী ট্যাংকার ও খাদ্যবাহী জাহাজ চলাচল। যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কঠোর জলবায়ুতে টিকে থাকা সহজ নয়, এর জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা লাগে। গ্রীষ্মে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও (১২২ ফারেনহাইট) বেশি হয়। এ অঞ্চলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ খুবই নগণ্য। তাই তো অধিকাংশ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এমনকি, অঞ্চলটিতে সুপেয় পানির চরম অভাব। আরব দেশগুলোর পানীয় জলের বেশিরভাগই সমুদ্র থেকে সংগৃীহত। পানি পরিশোধন করে মানুষদের দেয় দেশগুলোর সরকারেরা।

সৌদি আরব নিজেদের মোট খাদ্যের ৮০ শতাংশ আমদানি করে। ৯০ শতাংশ আমদানি করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর কাতার আমদানি করে নিজেদের চাহিদার মোট খাদ্যের ৯৮ শতাংশ। এছাড়া ইরাকও প্রচুর খাদ্য আমদানি করে। এসব দেশের বেশিরভাগ খাদ্যবাহী জাহাজ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলে আসা খাদ্যবাহী জাহাজগুলোর অধিকাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে এখন নৌপথটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে রয়েছে। জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য পরিবহনকারীরা বিকল্প পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্য পথে জাহাজ চলাচলে খরচ অনেক বেশি। এর ফলে খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে, যা গিয়ে সরাসরি পড়বে ভোক্তাদের ওপর।

এমনকি, ইরানও তার বাণিজ্যের বড় একটি অংশের জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল কোভিড-১৯ মহামারি এবং ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে গুরুতর বিঘ্নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ডব্লিউএফপির ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক কার্ল এসকেআউ বলেন, “শিপিং খরচ বাড়ছে খুব দ্রুত।”

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাৎক্ষণিক কোনও খাদ্যসংকট না থাকলেও এ সংঘাত সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে। সংকটের সমাধান না হলে একপর্যায়ে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো খাদ্য সংকটে পড়বে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফল ও সবজি বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান কিবসনস ইন্টারন্যাশনাল প্রতি বছর ৫০ হাজার খাদ্য আমদানি করে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে খাদ্য আমদানি করা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা খাদ্য আনতে ভিন্ন রুটের কথা চিন্তা করছে।

কিবসনস ইন্টারন্যাশনালের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক ড্যানিয়েল ক্যাবরাল বলেন, “এ মুহূর্তে সাপ্লাই চেইন খুবই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।”

বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখতে কাজ করা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’র (ইউকেএমটিও) তথ্য মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত দুই ডজন জাহাজে হামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্গো জাহাজও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনও জাহাজ কোম্পানি ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক না।

আরেকটি ইস্যু হল, সাগরে থাকা জাহাজের পরিমাণ নিয়ে। ক্যাবরাল বলেন, “কিবসনস ইন্টারন্যাশনালের কয়েক টন খাদ্য জাহাজে রয়েছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ। এসব জাহাজ কবে নাগাদ বন্দরে পৌঁছাবে তার কোনও নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না।”

এনজে