আইএমএফের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত এপ্রিলের পর

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৩-২৫ ১৪:৪৪:২৩


আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির শর্ত বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী এপ্রিলের পর।

‎বুধবার বাংলাদেশ সফররত আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

‎সংস্কার অগ্রগতি ও রোডম্যাপের তাগিদ

‎বৈঠকে আইএমএফ বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, এ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়াবদ্ধ করার ওপর জোর দেয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সংস্কারে একটি স্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ চেয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ এই পরিকল্পনাটি লিখিত আকারে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎রিজার্ভ ও বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি

‎আইএমএফের পূর্বনির্ধারিত শর্তগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার বিষয়টি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী কিস্তি: সিদ্ধান্ত এপ্রিলের পর

‎সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, আগামী এপ্রিলে আইএমএফ-এর ‘স্প্রিং মিটিং’ অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর একটি রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। তারা সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার অগ্রগতি এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‎বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন পায়, যার উদ্দেশ্য ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া। এ ঋণ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কিস্তির আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আইএমএফ।
‎নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফ-এর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এই সফরকে ‘কার্টেসি ভিজিট’ ও টেকনিক্যাল আলোচনার সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হলেও, পরবর্তী কিস্তি পেতে হলে সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএইচ