পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে এনবিআরের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব ডিবিএর
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৪-০১ ১৯:০৫:৫৩
পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় আসন্ন ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য এনবিআরকে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বুধবার (১ এপ্রিল) এনবিআরের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারেজের সংগঠনটি।
ডিবিএর প্রস্তাবনায় ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন করা হয়। পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নে পুনরায় কর সংযোজন করা হয়। ফলে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।
ডিবিএর মতে, এর ফলে কোম্পানির স্পন্সর ও পরিচালকরা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে আগ্রহ হারান। উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হন এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডাররা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ডিবিএ জনিয়েছে, বর্তমানে কোম্পানি করদাতাদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ উৎসে করকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা এই সুবিধা পান না।
ডিবিএর মতে, অতিরিক্ত করের চাপ এড়াতে অনেক বিনিয়োগকারী রেকর্ড ডেটের পূর্বে শেয়ার বা ইউনিট বিক্রি করে দেয়, ফলে আর্কষণীয় লভ্যাংশ প্রদান স্বত্তেও কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর নেতিবাচক ধারায় চলে যায়।
তাই সকল ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর জন্য নগদ লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
ডিবিএর মনে করে, এর মাধ্যমে কর কাঠামো সহজ ও স্বচ্ছ হবে। দ্বৈত করের বোঝা কমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। কোম্পানিগুলো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় উৎসাহিত হবে। ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতাদের মধ্যে করনীতিগত সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। শেল কোম্পানি নিরুৎসাহিত হবে।
এর পাশাপাশি কর রেয়াতের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপক বা ফান্ড ম্যানেজার কর্তৃক ইস্যুকৃত ইউনিট সার্টিফিকেট এবং মিউচুয়াল ফান্ড, ইটিএফ বা যৌথ বিনিয়োগ স্কিম ইউনিট সার্টিফিকেটে পাঁচ লাখ টাকার সীমা রয়েছে। এর ফলে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করে ডিবিএ। তাই এক্ষেত্রে এই সীমা তুলে দিয়ে, যে কোনো পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে ডিবিএ।
ডিবিএ জানায়, এর মাধ্যমে আমাদের মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল হবে।
বর্তমানে কোম্পানি, তহবিল ও ট্রাস্ট ব্যতীত অন্যান্য করদাতাদের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনী আয়ের উপর ১৫ শতাংশ কর রয়েছে। কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে নিয়মিত করহার আরোপ করা হচ্ছে।
ডিবিএর মতে, এই করহার মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের মধ্যে বৈষম্যমূলক। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে এটিকে প্রতিবন্ধকতা। তাই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত যে কোন সিকিউরিটিজ অথবা মিউচুয়াল ফান্ড বা তহবিলের ইউনিট লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনী আয়ের উপর ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শেয়ার লেনদেনের মোট টার্নওভারের উপর নির্দিষ্ট হারে টিডিএস কর্তন করা হয়। এই অর্থকে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করা হয়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত লাভ না থাকলেও বা লোকসান হলেও ব্রোকারেজ হাউসসমূহকে কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। ডিবিএ এই করকে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে বিবেচনা না করে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করে বার্ষিক আয়কর রিটার্নে প্রকৃত করের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে। এর ফলে ব্রোকারেজ ব্যবসার ক্যাশ ফ্লো উন্নত হবে, যা বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ও তারল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেছে ডিবিএ।
ইকুইটি লস বা নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্ত কর ছাড় অনুমোদিত। তবে এই সীমার বাইরে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের উপর করের বোঝা থেকে যায়। ডিবিএর মতে, লোকসানগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের উপর কর আরোপ বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি তাদের পুনরায় বাজারে সক্রিয় হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। তাই বিদ্যমান ১০ লাখের এই কর ছাড়ের সীমা তুলে দিতে বলেছে ডিবিএ। এর পাশাপাশি ইকুইটি মাইনাস অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট ওয়েভার ইনকাম, ক্যাশ ডিভিডেন্ড ইনকাম এবং নেগেটিভ ইকুইটি কোডের বিপরীতে অর্জিত ক্যাপিটাল গেইনের উপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতির দাবি জানানো হয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত করতে ইক্যুইটি আইপিও ইস্যুর ক্ষেত্রে ডিমড টু বি লিস্টেড কোম্পানির কাঠামো প্রবর্তনের কথা বলেছে। এক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে কয়েকটি শর্তের একটি শর্ত পূরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শর্তগুলো হলো পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি, বার্ষিক টার্নওভার ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি, ব্যাংক ঋণ ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান বার্ষিক ১০ কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স ইনসেনটিভ, ট্যাক্স বেনিফিট বা ক্যাশ ইনসেনটিভ উপভোগ করে এসব শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করলেই এই কাঠামোয় পড়বে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিষ্ক্রিয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডিবিএ। যেসব কোম্পানি টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করেনি বা লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, তাদের অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমান করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













