হাইকোর্টের রায়ে সভাপতি পদ হারিয়ে মাদ্রাসা সুপারকে হেনস্থার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৬-০৪-১৮ ১৫:৪৯:৫৭


ভোলার চরফ্যাশনে জাহানপুর কারামাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা সুপারকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা এনায়েত উল্লাহ গোলদারের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জাহানপুর কারামাতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জাহানপুর কারামাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর প্রবাস থেকে এসে এনায়েত গোলদার নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে ম্যানেজিং কমিটির উপর প্রভাব বিস্তার করে মাদ্রাসার সভাপতি সাবেক সুপার মাওলানা মাকসুদুর রহমানকে সরিয়ে নিজেকে সভাপতি ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মাওলানা মাকসুদুর রহমান হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১৩ এপ্রিল আদালত এনায়েত গোলদারের সভাপতি পদ স্থগিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন অভিভাবক সদস্য জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে এনায়েত উল্লাহ গোলদার কয়েকজন নেতাকর্মীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক বিএনপি নেতা মোছলেহ উদ্দিন ও জহিরের সহায়তায় মাদ্রাসার অফিস কক্ষে গিয়ে সুপারকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এমনকি তাকে শারীরিকভাবেও হেনস্তা করেন।

মাদ্রাসা সুপার আবদুস সালাম অভিযোগ করে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা এনায়েত উল্লাহ গোলদার কয়েকজন নেতাকর্মীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে এনায়েত গোলদার তার অনুসারীদের নিয়ে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় আমাকে টেনে হিঁচড়ে পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

মাদ্রাসা সুপার বলেন, গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রথমে সভাপতি হিসেবে মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাওলানা মাকছুদুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি এনায়েত উল্লাহ গোলদার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সভাপতি হলে মাকছুদুর রহমান হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট মাকছুদুর রহমানকে বহাল রেখে রুল জারি করেন, যার কপি আমরা পেয়েছি।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদায় অনুষ্ঠানে মাওলানা মাকছুদুর রহমানকে সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এনায়েত গোলদার আমার উপর চড়াও হন। তিনি আমার ছাত্র হয়েও আমার গায়ে হাত তুলেছেন, যা একজন শিক্ষকের জন্য চরম অপমানজনক। একজন শিক্ষক হিসেবে যাকে মানুষ করার জন্য পরিশ্রম করেছি, সেই ছাত্রের হাতেই আজ লাঞ্ছিত হতে হয়েছে—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সম্পর্ক, এ ঘটনার মাধ্যমে তা ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই একটি লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, এনায়েত গোলদার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবাসে নিরাপদ জীবন কাটিয়েছেন। ৫ আগস্ট হাসিনার পতন হলে তিনি এলাকায় ফিরে এসে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। দলে কোন পদ না থাকলেও নিজেকে এমপি নুরুল ইসলাম নয়নের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছেন। তার বেপরোয়া আচরণে স্থানীয় বিএনপির দুঃসময়ের ত্যাগী নেতারাও এখন আতঙ্কিত। এমপি যেখানে চরফ্যাশনে সুন্দর রাজনীতির বার্তা বহনে কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে এনায়েতুল্লাহ এমপির সুনাম, সুখ্যাতি ক্ষুন্ন করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ জাহানপুর মাদ্রাসার সুপার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সালামের সাথে সে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তার জন্য আমিসহ পুরো ইউনিয়ন বিএনপি লজ্জিত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনায়েত উল্লাহ গোলদার বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, আমি এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল চিঠি পাইনি। সে কারণে আমি এখনো সভাপতি হিসেবে বহাল রয়েছি। সুপার অনুষ্ঠানে আমার নাম ঘোষণা করতে নিষেধ করেছেন। আমি জানতে চাইলে উনি উত্তর না দিয়ে চলে যেতে চেয়েছেন এজন্য আমি হাত ধরেছি। ওনাকে হেনস্থার অভিযোগ সঠিক নয়।

এদিকে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএইচ