মূল্যায়নের আশ্বাস বিএসইসির
আইপিও তহবিলের অর্থ ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগে ব্যবহারের সুযোগ চায় অংশীজনরা
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৪-২৩ ১৯:২৪:২৩
আইপিও তহবিলের অর্থ ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগে ব্যবহারের সুযোগ চায় ইস্যুয়ার কোম্পানি ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র কার্যালয়ে “ডিসকাশন মিটিং অন আইপিও প্রসিডস ইউটিলাইজেশন ফর লোন রিপেমেন্ট অর ইনভেস্টমেন্টস অব ইস্যুয়ার” শীর্ষক বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ইসুয়ার কোম্পানি ও বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
অন্যদিকে ইস্যুয়ার কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এই প্রস্তাব মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বৈঠকে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান কমিশনার এবং পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশীজনদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে সভায় পুনঃতফসিলকৃত ঋণ যা নিয়মিত রয়েছে -সেটিকেও আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও সভায় বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পুঁজিবাজারের সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, পাশ্ববর্তী দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারের আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা নেই যেমনটা আমাদের পুঁজিবাজারে রয়েছে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনা করে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, যে উদ্দেশ্যে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করা হবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা এবং সত্যিকার অর্থে কোম্পানি বা প্রজেক্টের জন্য লাভজনক হচ্ছে কিনা তা বিবেচনায় আনা উচিত। দেশের অনেক বৃহৎ ও স্বনামধন্য গ্রুপেরও অনেক উচ্চাভিলাসী প্রজেক্ট রয়েছে; শুধু গ্রুপের সুনাম বিবেচনায় নিয়ে এমন উচ্চাভিলাসী প্রজেক্টের ঋণ পরিশোধে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার যথাযথ হবে না।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস্ (বিএবি) এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, গ্লোবাল মার্কেটের সাথে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ও উন্নত ক্যাপিটাল মার্কেট (পুঁজিবাজার) সত্যিই কার্যকর সমাধান। তিনি বাংলাদেশেও পুঁজিবাজারের যথাযথ উন্নয়ন ও বিকাশ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে উৎপাদনশীল বা সম্প্রসারণের কাজের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করে ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং করার সুযোগ থাকা উচিত জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, দেশের অর্থনীতি এবং নানা সংকট বিবেচনায় দুই এর অধিক বার পুনঃতফসিলকৃত নয় এমন ঋণকেও বিভিন্ন ‘কন্ট্রোল মেকানিজম’ বহাল রেখে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
একই অভিমত পোষণ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এর প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ভালো কোম্পানিও বৈশ্বিক নানা সংকট ও সমস্যার কারণে লসে থাকতে পারে এবং তারও পুনঃতফসিলকৃত ঋণ থাকতে পারে। তাই অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় পুনঃতফসিলকৃত ঋণকেও আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধের সুযোগ প্রদানের দাবি জানান তিনি।
সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির জন্য বেনিফিশিয়াল হলে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে শুধু ডিসক্লোজার বা কমপ্লায়েন্স বেজড না থেকে যাচাইবাছাই করে কাজ করতে হবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকা (এমসিসিআই)-এর প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান, দেশে শর্ট টার্ম ডিপোজিট দিয়ে লং টার্মের অর্থায়ন করা হচ্ছে। এটি নিরুৎসাহিত করে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে পলিসি ও রুলস এ সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।
আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহারে মতামত দেওয়া বাজার অংশীজনদের ধন্যবাদ জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বৈঠকে তিনি বলেন, অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তাবনাসমূহ বিএসইসি মূল্যায়ন করে দেখবে। তবে বিএসইসির অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। বিএসইসি পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেই কাজ করবে।
তিনি পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার উপর জোর দেন। পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিসমূহকে গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে আনা এবং ভালো ও মৌলভিত্তি কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













