ভারী বর্ষণে ক্ষতির মুখে হাওরের ৩৮ শতাংশ ধান

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৬-০৪-৩০ ০৯:৫৯:২৬


টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে আবারও বিপর্যস্ত দেশের হাওরাঞ্চল। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় এখনো প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৯৫৮ হেক্টর জমির অধিকাংশ ধান পানির নিচে, যা মোট আবাদের অন্তত ৩৮ শতাংশ।

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বোরো মৌসুম সারা বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এই ফসলের ওপর নির্ভর করেই সংস্থান হয় পুরো বছরের সংসারের খাবার। চাষের জন্য যে ঋণ নিয়েছেন তা পরিশোধের পর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। কিন্তু গত কদিনের অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কতটুকু সংগ্রহ করা যায় সে পরামর্শ দিতে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী থেকে ১৪ জন কৃষি কর্মকর্তা গত ২৮ এপ্রিল ছুটে গেছেন হাওরাঞ্চলে।

সেখানে অবস্থান করে তাঁরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কিভাবে উদ্ধার করা যায়। তবে এই হঠাৎ বিপর্যয়ে কৃষক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি সরকারের কৃষি বিভাগ। অন্যদিকে হঠাৎ এই অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে পশুখাদ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে হাওরের সাত জেলায় মোট চার লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টন।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, যা মোট আবাদের প্রায় ৬২ শতাংশ। বাকি ৩৮ শতাংশ জমির ধান এখন পানির নিচে ক্ষতির মুখে। এই জমিতে সাত লাখ ৩১ হাজার ৫৯৫ টন ধান হওয়ার কথা ছিল।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে সুনামগঞ্জে। জেলায় এক লাখ ৬৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কিশোরগঞ্জে এক লাখ চার হাজার ৫৮১ হেক্টর, হবিগঞ্জে ৫৬ হাজার ৯২৪ হেক্টর, নেত্রকোনায় ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর, সিলেটে ৩৭ হাজার ৬২৬ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৫০ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই কোটি ২৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কথা মাথায় রেখে আগেই দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জমির ধান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাটতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে সেই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়নি।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলায় এখন পর্যন্ত ৮৯৭ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ হাওরে ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত বাকি ধান কাটা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

এনজে