বিশৃঙ্খল পুলিশকে অনেকাংশে গুছিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি: আইজিপি
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৫-০৮ ১৯:৩০:৩৬
বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা পুলিশকে অনেকাংশে গুছিয়ে আনা গেছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, আমাদের বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। সেটা অনেকাংশে গুছিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই পুলিশ সপ্তাহে পুলিশকে আরও সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের অন্য যারা আছেন, তারা নির্দেশনা দেবেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে পুলিশ আশা করে, সবার সহযোগিতায় আমরা সেই পুলিশ গড়ে তুলতে পারবো।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ৩০০ ফিটে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকায় খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি আলী হোসেন ফকির জানান, এখানে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ফলে খিলক্ষেত থানা এলাকার গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফিট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে-সংলগ্ন অঞ্চলগুলো বর্তমানে দ্রুত বর্ধনশীল নগরাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। খিলক্ষেত থানার বর্তমান অবস্থান বিবেচনা এবং সম্প্রসারিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পুলিশের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বরুয়া এবং আশপাশের এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।
৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যা পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর সংযোগ স্থাপন করেছে। এর আশপাশে অবস্থিত নামাপাড়া, পাতিরা, ডুমনি, বরুয়া ও তলনা এলাকাগুলো প্রশাসনিকভাবে খিলক্ষেত থানার আওতাভুক্ত হলেও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো থানা থেকে তুলনামূলক দূরবর্তী। এগুলো পূর্বাচল নতুন শহরের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাণিজ্যিক জোন এবং একাধিক সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায়, এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন খিলক্ষেত থানার কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ ও কার্যকর করবে, যোগ করেন আইজিপি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা ও তলনা এলাকায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন আবাসিক প্রকল্প ও বসতি স্থাপনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ঘিরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগ হাব হওয়ায় এলাকাটি মাদক পরিবহন ও লেনদেনের একটি সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ারও ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনের পাশাপাশি এলাকাগুলোতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেড়েছে। ফলে অস্ত্র, মাদক ব্যবহারসহ সার্বিকভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তার ওপর ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশে রাতে বিনোদনপ্রেমী মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। যার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক শক্তিশালী পুলিশি উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশপাশে চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা আছে জানিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু খিলক্ষেত থানা থেকে এই এলাকাগুলো দূরে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে এখানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
তাছাড়া গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা ও দূরত্বের কারণে যাতায়াত খরচ, সময়ের স্বল্পতাসহ নানান কারণে এই এলাকার বাসিন্দারা থানায় গিয়ে পুলিশি সেবা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। যার কারণে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। এখন এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। পুলিশি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা যাবে, যাতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, উল্লেখ করেন আইজিপি।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














