পাবনায় জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার প্রতিবাদে এমপির বিক্ষোভ
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৬-০৫-২২ ০৯:৪৫:১২
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ধারালো অস্ত্রধারীদের হামলায় জামায়াতের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবক আব্দুর রহমান, স্বপন ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার দাশমরিচ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত জিল্লুর রহমান (৫০) দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা, খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি ও পেশায় একজন শিক্ষক। আর অভিযুক্ত আব্দুর রহমান (২৫) কালিয়ানজিরি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। জামায়াত নেতাদের দাবি, তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আলী আজগর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানা চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় রাত ২টা পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আবুল কালাম বলেন, ‘‘সকালে জিল্লুর রহমানকে দেখে আব্দুর রহমান ‘কিরে, কোথায় জান্নাতের টিকিট বেচতে যাস’ বলে কটূক্তি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে থাকা একজন আব্দুর রহমানকে দুটি চড় মারেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এর জেরে দুপুরে আব্দুর রহমান ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে জিল্লুর রহমানের বাড়িতে যান। এ সময় তারা জিল্লুরকে না পেয়ে তার মাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। পরে জিল্লুর রহমানকে খুঁজতে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও যান হামলাকারীরা, সেখানেও পায়নি। এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে রাস্তায় পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।’
স্থানীয়রা আহত জিল্লুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গুড়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পর রাতেই ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে সংসদ সদস্য আলী আসগরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকালে আলী আজগর বলেন, ‘আমার নেতা রক্তাক্ত কেন, প্রশাসন জবাব চাই।’
পরে তিনি বলেন, ‘আমার নেতাকে কুপিয়ে করে মৃতপ্রায় করে ফেলা হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় থানায় গিয়ে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি।’
তবে অভিযুক্তদের বিএনপি বা ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও এজাহার দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনা সম্পর্কে অবগত থাকায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।’
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













